জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৬ জনের মধ্যে ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ ও নাজমুস সাকিব তপুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত অন্য চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নির্মল কুমার দাস। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী রানা কাউসার।
এই মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট আজ রায় দিলেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দন্ডপ্রাপ্তরা আগে ছাত্রদল করতো। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় এরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু হাসনাত মফিজুর রহমান টুটুল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মামলা সূত্রে জানা গেছে এই হত্যাকাণ্পে দন্ডপ্রাপ্তরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল।
২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের আহামেদ ছাত্রলীগের কোন্দলে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। জুবায়ের নিহত হওয়ার পর ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে পদত্যাগে বাধ্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই সময়কার উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির।
ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন নিবন্ধক হামিদুর রহমান বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
২০১২ সালের ৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মীর শাহীন শাহ পারভেজ। পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান দু’জন।
বিচারিক আদালতের ওই রায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ ও জাহিদ হাসান, দর্শন বিভাগের রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম। এদের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম রাজু আতসমর্পণ করে। বাকিরা পলাতক।
বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়: পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ডু অভি, দর্শন বিভাগের কামরুজ্জামান সোহাগ ও ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম এবং অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নাজমুস সাকিব তপু।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে অরূপ পলাতক, বাকিরা কারাগারে রয়েছেন।







