গৃহযুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচতে ১৬ মাস আগে যখন সিরিয়া থেকে জার্মানি পাড়ি দেন নোয়েন মুস্তাফা, তখন তিনটি স্বপ্ন ছিল তার। জার্মানিতে বসবাসরত ভাই-বোনদের সঙ্গে মিলিত হওয়া, ইংল্যান্ডের রানির সঙ্গে দেখা করা এবং নভোচারী হওয়া। সেভারাল পালসিতে আক্রান্ত হয়ে হুইল চেয়ারের সাহায্যে চলাচল করা ১৯ বছর বয়সী সিরিয়ান তরুণীর মনে ছিলে আরেকটি গোপন স্বপ্নও। কখনো সুযোগ পেলে ন্যু ক্যাম্পে বসে বার্সেলোনার খেলা দেখা।
নোয়েনের স্বপ্নভেলার একটি পূরণ হয়েছে। জার্মানিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এই তরুণী। যুদ্ধের তাণ্ডব, নিজের স্বপ্ন নিয়ে নিয়ে একটি বইও আছে তার, ‘দ্যা গার্ল ফ্রম আলেপ্পো।’ সেখানেই লিখেছিলেন বার্সার খেলা মাঠে বসেই দেখতে চান। তার সেই স্বপ্নই পূরণ করেছে কাতালান ক্লাবটি। সঙ্গে ছিল বিশেষ কিছু চমকও।
বিশেষ একটি চিঠিতে নোয়েনকে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ন্যু ক্যাম্পে বসে খেলা দেখার আমন্ত্রণ জানায় বার্সা। সেই আমন্ত্রণে জার্মানির কোলন থেকে বাস ভ্রমণে কাতালোনিয়া পৌঁছান নোয়েন। পথে ভিডিও বার্তায় তাকে শুভেচ্ছা জানান বার্সা ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকে।
৬ ডিসেম্বর ন্যু ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বার্সা সভাপতি জোসেপ মারিয়া বার্তেমেউ স্বয়ং দেখা করেছেন নোয়েনের সঙ্গে। উপহার দিয়েছেন বার্সার বিশেষ স্মারক কোট পিন। তারপর মাঠে বসে বার্সা বনাম সেল্টা ভিগোর ম্যাচ উপভোগ করেন নোয়েন। সেদিন সেল্টার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে কাতালান জায়ান্টরা।
ম্যাচের পরে ড্রেসিংরুমে নোয়েনের সঙ্গে দেখা করেন বার্সার জার্মান গোলরক্ষক টের স্টেগেন। তারপরেই আসেন পিকে। বার্সা ডিফেন্ডারকে তার অটোগ্রাফ দেয়া বই উপহার দেন নোয়েন। পিকের পক্ষ থেকেও ছিল উপহার। নোয়েনের নাম লেখা বার্সার জার্সি।
চমকের সেখানেই শেষ ছিল না! দলের অনুশীলন মাঠে এসে মেসি-ইনিয়েস্তার সঙ্গে দেখা করেছেন নোয়েন। নোয়েনকে অটোগ্রাফ আর উপহার দিয়েছেন ইনিয়েস্তা। আর মেসির সঙ্গে ফটোগ্রাফ যেন নোয়েনের কাছে ছিল বিশেষকিছুই।
নোয়েন তাতেই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ ভাবছেন নিজেকে। ইংলিশ টিভি সিরিজ দেখে ইংরেজি শেখা সিরিয়ান তরুণী জানাচ্ছেন, যখন সবকিছু মনে হয় অন্ধকার, বিষণ্ণ; তখনও নিজের মনের উপর ভরসা রাখাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
সেটার ফল যে কতটা মধুর নোয়েনকে যেন সেই উপহারই দিল ক্লাবের চাইতেও বেশিকিছু- বার্সেলোনা।








