জার্মানীর বাভারিয়ান আল্পসে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। শিল্পোন্নত সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের বার্ষিক এ সম্মেলনের এবারের বৈঠকে পূর্ব ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার ওপর অবরোধ আরোপের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে গত বছর রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তাই এ বছর এটি জি-৮ না হয়ে জি-৭ সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে তিনবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সম্মেলনের বাইরে রাখা হলো। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত রাশিয়ার উপর অবরোধ বলবৎ থাকবে।
রোববার সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি, কানাডার প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।
সম্মেলনে আরো যোগ দিয়েছেন জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান নির্বাহী জ্যঁ-ক্লদ জাঙ্কার।
এবারের সম্মেলনে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত যেসব দেশকে মস্কো তার ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে প্রলুব্ধ করছে তাদেরকে সহায়তা দেয়ার ব্যাপারে চুক্তি করতে পারে জার্মার্নি, ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অবরোধের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ছে রাশিয়ার অর্থনীতি। আর পশ্চিমা জোট চাইছে এ অবরোধ আরো দীর্ঘস্থায়ী করতে।
মস্কো-ইউক্রেন ইস্যু ছাড়াও এবারের সম্মেলনের আলোচ্য সূচিতে প্রাধান্য পাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) উত্থানের কারণে নিরাপত্তা হুমকি এবং মালি ও কেনিয়ায় চলমান সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট হুমকিগুলো। এ ছাড়া ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি, সমুদ্রসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরোধ, নারীর অধিকার থেকে শুরু করে ইবোলা ভাইরাস পর্যন্ত নানা সামাজিক ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলি।
সম্মেলন উপলক্ষে গারমিস্ক-পারতিন কিরচেন শহরে শনিবার বিক্ষোভ দেখিয়েছে সম্মেলনের বিরোধীরা। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। তবে গতবার সম্মেলন চলাকালে যে ধরণের সহিংস ঘটনা ঘটেছিল এবার তার মাত্রা সে তুলনায় কম।
সম্মেলনের নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্মেলন এলাকার আশেপাশে ১৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে। এছাড়া অস্ট্রিয়া সীমান্ত এলাকায় ২ হাজার পুলিশকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।






