চট্টগ্রাম থেকে: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জিততে অপেক্ষা করতে হয়েছিল চার বছর। তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারের পর চতুর্থ সিরিজে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই শুরু, এরপর দলটির বিপক্ষে সিরিজ জয় অভ্যাসে পরিণত করেছে টিম টাইগার্স। ধাপে ধাপে এগিয়ে সিরিজ জয়ের দুই অঙ্কে প্রবেশ করলেন মাশরাফী-মুশফিকরা। দশম সিরিজ জয়টি এল এক ম্যাচ হাতে রেখেই।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার একই মাঠে সিরিজের শেষ ম্যাচ। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ পায় ২৮ রানের জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: জিম্বাবুয়ে-২৪৬/৭ (৫০ ওভার), বাংলাদেশ-২৫০/৩ (৪৪.১ ওভার)
সাগরিকার ব্যাটিংস্বর্গে লক্ষ্যটা নাগালের মধ্যে রাখেন টাইগার বোলাররা। সফরকারীদের দেয়া ২৪৭ রানের লক্ষ্য টপকাতে তাই বেগ পেতে হয়নি। লিটন দাস ও ইমরুল কায়েসের ১৪৮ রানের ওপেনিং জুটিই ম্যাচের গতিপথ নিয়ে আসে বাংলাদেশের দিকে। পরে সহজ জয়েই সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

দাপুটে জয়ের দিনে আক্ষেপ হয়ে থেকেছে লিটন ও ইমরুলের সেঞ্চুরির সুযোগ হারানো। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার সব নিয়ামকই ছিল দুজনের ব্যাটে। সিকান্দার রাজাকে উইকেট উপহারে বিসর্জন দেন সেঞ্চুরি।
যেভাবে চাচ্ছিলেন সেভাবেই ব্যাটে বল লাগছিল লিটনের। মাঠের চারদিকে সাজিয়ে চলেন অসাধারণ সব শটের পসরা। ১২টি চার ও একটি ছয় হাঁকানো এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান কাভারে ৩০ গজ বৃত্ত বরাবর দাঁড়ানো তিরিপানোর হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন।
লিটনের মতো ইমরুল ভুল করবেন না ভেবেই সেঞ্চুরি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাজারো দর্শক। ইমরুলও উইকেটে স্থির থেকে খেলতে থাকেন এক-দুই। লিটনের পরই ফজলে রাব্বি এসেই আউট হলে মুশফিককে নিয়ে জয়ের পথে হাঁটেন সতর্ক থেকে। কিন্তু হঠাৎ করে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লংঅফে চিগুম্বুরার হাতে ক্যাচ দেন।
ইমরুলের আক্ষেপটাও থাকে বড় হয়ে। আগের ম্যাচেই খেলেছিলেন ১৪৪ রানের দারুণ এক ইনিংস। ব্যাক-টু-ব্যাক সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া করেন আলগা বলে আউট হয়ে। অভিব্যক্তিই বলছিল কত বড় সুযোগ হারিয়েছেন এই এ বাঁহাতি। ১১১ বলে ৯০ রানের ইনিংসে ছিল সাতটি চার।
মুশফিক ৪০ ও মিঠুন ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন। জয়সূচক রান আসে মিঠুনের ছক্কায়। দলকে সিরিজ জেতানোর দিন বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছান মুশফিক।
সন্ধ্যা নামলেই শীতের আমেজ টের পাওয়া যায় চট্টগ্রামে। শিশিরে ভিজে যায় মাঠ। তালুতে বল গ্রিপ করা কঠিন, তাতে সুবিধা মিলবে রাতে যারা ব্যাট করবেন। সেই আশাতেই টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন মাশরাফী।

ব্রেন্ডন টেলরের ৭৫, সিকান্দার রাজার ৪৯ ও শেন উইলিয়ামসের ৪৭ রানে ভর করে বড় সংগ্রহের আভাস দিলেও স্লগ ওভারে টাইগার বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে আড়াইশর আগে থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস।
জিম্বাবুয়ে ৪২.২ ওভারে তুলে ফেলে ২০০ রান। হাতে তখনও ৬ উইকেট। শেষটায় মোস্তাফিজ-সাইফউদ্দিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৪৬ বলে তোলে ৪৬ রান।
১০ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন সাইফ। একটি করে উইকেট নেন মাশরাফী, মোস্তাফিজ, মাহমুদউল্লাহ ও মিরাজ।






