যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার স্বঘোষিত মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মোহাম্মদ দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী জিনা হাসপেলের (৬১) বিষয়ে তথ্য শেয়ার করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন।
বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সিআইএ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিনা, তার নিয়োগ চূড়ান্ত করতে বুধবার সিনেট শুনানি হয়। প্রায় আড়াইঘন্টার মতো অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে কঠোর জেরার সম্মুখিন হন জিনা।
সিনেটে এই পাবলিক শুনানির পর এখন সিনেটরদের সাথে প্রাইভেট মিটিং করছেন জিনা। সেখানে গোপনীয় তথ্য নিয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
মাত্র কয়েকজন রিপাবলিকানের সমর্থন সিনেটে মাত্র অল্প ব্যবধানেই এগিয়ে রেখেছে জিনাকে। ডেমোক্রেটরা তার বিরুদ্ধে একাট্টা। তাই সিআইএ প্রধান হিসেবে তার অনুমোদন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
কিউবায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগারে আটক থাকা খালিদ বিচারকদের কাছে অনুমতি চেয়েছেন, যে তিনি জিনার বিষয়ে ৬ অনুচ্ছেদের একটি তথ্য শেয়ার করতে পারেন কিনা, নিউ ইয়র্ক টাইমসের বরাতে এমনটি জানায় বিবিসি।
২০০৩ সালে আটকের পর সিআইএর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালিদ।
থাইল্যান্ডে সআইএর গোপন কারাগারে ২০০২ সালে আটকদের ওয়াটারবোর্ডিং এর মতো কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়ার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন জিনা।
সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে হাসপেল জানান, তার নেতৃত্বে এই সংস্থাটি গোপন কারাগার এবং জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া, যেখানে সন্দেভাজনদের নির্যাতন করা হয়, তা পুনরায় চালু করবে না।
ওয়াটারবোর্ডিং সেশনগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছে তা সিনেটকে নিশ্চিত করতে অস্বীকার করেন জিনা। জিজ্ঞাসাবাদের সেই ভিডিও টেপগুলো ধ্বংস করে দেওয়ার সিআইএ’র সীদ্ধান্তকে সমর্থন করেন জানিয়ে তিনি বলেন, সদস্যদের পরিচিতি গোপন রাখার জন্য তা করা হয়েছিলো।
ট্রাম্পের সেই বক্তব্য ‘জিজ্ঞাবাদের ক্ষেত্রে নির্যাতন কাজ করে’ তা জিনা সমর্থন করেন কিনা- এমন প্রশ্ন ছিলো সিনেটর কামালা হ্যারিসের। এর উত্তরে জিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করিনা যে নির্যাতন কাজ করে।
একজন বিক্ষোভকারীর জন্য এই শুনানি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশ নিয়ে যায়।
জিনার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে তথ্য দেয়ার জন্য খালিদের আবেদন বিচারক কর্নেল জেমস পলের কাছে জমা দেয়া হয়েছে বলে জানান খালিদের আইনজীবী ডেরেক পটিট। ডেরেক জানান, তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারবেন না।
এই আবেদন গৃহীত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত খালিদ কুয়েতে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে পাকিস্তান থেকে তাকে আটক করা হয় এবং ২০০৬ সালে কিউবার গুয়ান্তানামোতে স্থানান্তর করা হয়।
সিআইএর নথিতে নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ১৮৩ বার ওয়াটারবোর্ডিং-র এর শিকার হয়েছ্নে।
এর আগে, সিআইএ প্রধান হিসেবে নিজের মনোনীত প্রার্থী জিনা হাসপেলের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে কঠোর প্রক্রিয়া ব্যবহার করে নিন্দিত জিনা সিআইএ প্রধান হওয়ার দৌড় থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিতে চেয়েছিলেন।
ঠিক এই সময়েই জিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কারণেই সমালোচনার শিকার হতে হচ্ছে জিনাকে।
১৩ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পদ হারান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। তার স্থলাভিষিক্ত হন সিআইএ পরিচালক মাইক পম্পেও। এরপরই সিআইএ’র উপ-পরিচালক জিনা হাসপেলকে পরিচালকের দায়িত্বের জন্য মনোনীত করেন ট্রাম্প। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সিআইএ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জিনা।
৩৩ বছর ধরে সিআইএ’তে কাজ করছেন জিনা। এর দীর্ঘ সময়ের অধিকাংশই তিনি আন্ডারকভার ছিলেন।
জিনা হাসপেল ২০০২ সালে থাইল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকসাইট কারাগার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন। ওই কারাগারে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতন করা হতো। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘ব্ল্যাক সাইট’ বন্ধ করে দেন।
জিনার তত্ত্বাবধানে সন্দেহভাজন দুইজন আল কায়েদা সদস্যকে ওয়াটার বোর্ডিংয়ের মতো ভয়ানক শাস্তি দেওয়া হয়।
বুশ আমলে নির্যাতনের বিভিন্ন সরকারির নথির আলোকে ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় ‘টর্চার রিপোর্ট’ নামের একটি বই। জিনা হাসপেলকে সিআইএ’র পরিচালক হিসেবে মনোনীত করার পর বইটির লেখক ল্যারি সিয়েমস উদ্বেগ জানান।
হাসপেল ১৯৮৫ সালে সিআইএ-তে যোগ দেন। তিনি সিআইএ’র জাতীয় গুপ্ত সেবা বিভাগের উপ-পরিচালক ছাড়াও বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম ৯/১১ হামলায় ধ্বসে পড়েছিলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আর নিহত হয়েছিলো প্রায় তিন হাজার মানুষ। ওয়াশিংটনে পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়াতেও বিমান হামলা হয়েছিলো।
ছিনতাই করা চারটি যাত্রীবাহী বিমান দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্লড ট্রেড সেন্টার আর ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আত্মঘাতী আক্রমণ হয়। দুটি বিমান আঘাত হেনেছিল টুইন টাওয়ারে, একটি পেন্টাগনে আর চতুর্থ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছিল পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলে।
এর পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের’ সূচনা করেন।







