সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের মুখোমুখি করতে ৪ বছর আগে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ‘সুরাহা’ চায় মানবতাবিরধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
মঙ্গলবার তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান হবিগঞ্জে ঘটা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর জামায়াতে ইসলামীকে বিচারের বিষয়ে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আব্দুল হান্নান খান বলেন, আমরা তদন্ত করে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করেছি সেই ২০১৪ সালে। এরপর সে প্রতিবেদনের উপর কোন চার্জ ফ্রেম হয়নি কিংবা আমাদের কাছে সে প্রতিবেদন ফেরতও পাঠানো হয়নি। এই ৪ বছর হয়ে যাওয়ায় আমরা ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ‘সুরাহা’ প্রত্যাশা করছি।
আব্দুল হান্নান খান আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। আর বিভিন্ন বিচারিক রায়ে জামায়াতে ইসলামীকে অপরাধী সংগঠন হিশেবে উল্লেখ করে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এবং সর্বশেষ জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১৪ সালে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এরপর সে প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে দাখিল করা হয়। সে তদন্ত প্রতিবেদনে জামায়াতে ইসলামী দলটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ৭ ধরণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সেই সাথে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয় ওই তদন্ত প্রতিবেদনে। ওই সময় তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেছিলেন, জামায়াতকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অপরাধ সংঘঠিত করা হয়েছে, সে কারণে সংগঠন হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। কিন্তু এরপর এ বিষয়টি আর কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর ৫ বছর পর গত ২৮ অক্টোবর নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।







