বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬ শিক্ষার্থীর নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট সমাধানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজতে থাকে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। কিন্তু প্রশাসনের অনড় অবস্থান ও দোদুল্যমানতার কারণে এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।’
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘আমরা দেখেছি প্রশাসন শিক্ষার্থীদেরকে আশ্বাস দিয়ে সে আশ্বাস রাখেনি। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতায় ভুগছে। তাদের আন্দোলন এখন শিক্ষকদেরও আন্দোলন হয়ে গেছে। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আমরাও মাঠে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এএসএম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক রাইয়ান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান সুমন।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্যের বাসভবনে অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভা চলছে। বিকাল ৩টার দিকে শুরু হয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সিন্ডিকেট সভা চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
সড়ক দূর্ঘটনায় জাবির দুই শিক্ষার্থী নিহতের জেরে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে গত ২৭ মে শিক্ষার্থীদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রেখেছে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধক্ষ্যসহ প্রশাসনিক ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।







