জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম আবর্তনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘৪৩ ব্যাচের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উৎসব’।
ক্যাম্পাসে ভর্তি হওয়ার পর প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ণিল নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটিকে পালন করছে ৪৩তম আবর্তনের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।
‘আয় বলি এক সুরে, তেতাল্লিশ মন জুড়ে…’ স্লোগানকে ধারণ করে দিবসটি উপলক্ষে ১৩ মে (রোববার) ও ১৪ মে (সোমবার) ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রথম দিন সকাল ১১টায় কেক কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘সময় মত শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তখন দেশ জাতি নির্বিশেষে মানব কল্যাণে নিজেকে নিয়োগ করতে পারলে একটি সফল অধ্যায়ের সূচনা হবে।’
উদ্বোধন শেষে সকাল সাড়ে ১১টায় অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম এর নেতৃত্বে ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। বিভিন্ন বিভাগ ও হলের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে ব্যান্ড বাজিয়ে রং মেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। ক্যাম্পাসজুড়ে দিনভর ছিলো অন্যরকম এক উৎসবের আমেজ।
এরপর দুপুর ১টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ব্যাচের সকল শিক্ষার্থীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে রাত ১০টায় কেন্দ্রিয় ক্যাফেটেরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ডিনার ও ডিজে পার্টি।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ৪৩ ব্যাচের প্রয়াত শিক্ষার্থীদের স্মরণে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে ৪৩-তম ব্যাচের স্মারক হিসেবে ৪৩টি ফানুস উড়ানো হবে। সন্ধ্যা ৬টায় সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে থাকবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও মেগা কনসার্ট। মেগা কনসার্টে গান পরিবেশন করবেন তুহিন ও আভাস ব্যান্ড।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩ ব্যাচের সাথে অধ্যয়নরত আছেন জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তা ও মীরাক্কেলের কমেডি পারফর্মার এমদাদুল হক হৃদয়।
ক্যাম্পাস লাইফের শিক্ষাবর্ষ ও বন্ধুত্বের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উৎসবে শারমিন আক্তার সুপ্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন; ‘তারুণ্যের উচ্ছ্বলতায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তা থেকে যায় সারাজীবন। হয়ত জীবনের নিয়মেই যোগাযোগ কমে যায় কিন্তু থেকে যায় বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন।’
এমদাদুল হক হৃদয় বলেন: ‘স্কুল আর কলেজ জীবনের বন্ধুত্ব পেরিয়ে একসময় জীবনে আসে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধুরা। ক্যাম্পাস জীবনের পরেও হয়তো বন্ধুত্ব হয় এবং ভালো বন্ধুত্বই হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সহপাঠীদের সাথে যে বন্ধুত্বের আবেদনটা চিরকালই কিন্তু একটু অন্য রকম রয়ে যায় মনের মাঝে।’
দেশ স্বাধীন হওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। স্বাধীন বাংলাদেশের সমবয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ব্যাচের সাথে স্বাধীনতা দিবসের রয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পদার্পণের সময় ব্যাচটির আগমন হওয়ায় ৪৩তম আবর্তন হিসেবে পরিচিত লাভ করে তারা।







