জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে ছিনতাইয়ের সময় বাধা দেয়ায় সেখানে কর্মরত সাংবাদিক এবং এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় বিচারের নামে প্রহসনের প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন সাংবাদিকরা। এসময় হামলাকারীদের বিচারের যৌক্তিক দাবিতে বিভিন্ন বিভাগের শতাধীক শিক্ষার্থী অবরোধে অংশ নেন।
অবরোধের কারণে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম। কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে ভবনের বাইরেই অবস্থান করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অবরোধকারী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, যতক্ষণ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন অবরোধ অব্যহত থাকবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিংপুল এলাকায় দুই বহিরাগতকে ছিনতাই ও মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে সেখানে কর্মরত চ্যানেল আই অনলাইনের সাংবাদিক মাহমুদুল হক সোহাগ ও অপর এক ছাত্রী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। পরে হামলার বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর তারা পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রক্টরিয়াল টিমের প্রাথমিক তদন্ত শেষে ২ অক্টোবর প্রথমে ৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ওইদিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিন জনকে বাদ দিয়ে পুনরায় চার জনের বহিষ্কারাদেশ দেয় অপর একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।
এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
কিন্তু পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর অদৃশ্য কোনো শক্তির চাপে মূল দোষীদের বাদ দিয়ে বহিষ্কার আদেশ দিয়ে আবার তা প্রত্যাহার করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত ৪ অক্টোবর উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিকরা দেখা করে পুনরায় বহিষ্কারাদেশ কার্যকরের কথা বললে তিনি ১২ অক্টোবরের মধ্যে দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন। উপাচার্যের দেয়া আশ্বাসের কোন কার্যকরি ভূমিকা না দেখতে পেয়ে রোববার থেকে অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন সাংবাদিকরা।







