শহীদ আজমল হক ও শহীদ নজির হোসেন খান চৌধুরী টুটুল মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের মায়া ত্যাগ করে দেশের জন্যে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁদের লড়াইটা ছিল ভিন্ন ধারার। দেশের মধ্যে থেকেই দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
শহীদ আজমল হক ও শহীদ নজির হোসেন খান চৌধুরী টুটুল স্মরণসভায় বক্তারা এই কথা বলেন। ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ, সাতক্ষীরার আয়োজনে শুক্রবার ম্যানগ্রোভ সভাঘর সাতক্ষীরা মিলনায়তনে এই স্মরণসভা হয়।
বক্তারা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁদের দেশপ্রেম ও জীবন ত্যাগের মহিমা তুলে ধরেন। আজমল টুটুলসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
প্রধান অতিথি খুলনা বিএল কলেজের অধ্যাপক আব্দুল মান্নান তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি ছিলেন সমাজতন্ত্রী। সমাজের আমূল পরিবর্তনে বিশ্বাসী। প্রচলিত রাষ্ট্র কাঠামোর বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার ছিলেন।
স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, শহীদ ডাক্তার মুর্তজার বাসায় নিয়মিত বৈঠক করতাম। রাজনীতির বই পড়াশুনা করতাম। আজমল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আমাদের বড়ভাই ছিলেন। সলিমুল্লাহ হলে একই সিটে দীর্ঘদিন কাটিয়েছি।
বক্তারা বলেন, আজমল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন গ্রামে। সেখানে কৃষকের মধ্যে, সাতক্ষীরা শহরে বিভিন্ন স্থানে পাঠচক্র গড়ে তোলেন। সে সব পাঠচক্রে কার্ল মাকর্স, লেনিন, মাও সেতুং আদর্শ প্রচার করতেন। সমাজতন্ত্রী আদর্শের বই পড়ে শুনাতেন আর পড়তে দিতেন। আজমল হক ৬০ এর দশকে সাতক্ষীরার সাহিত্য ও নাটকে অনন্য অবদান রাখেন। তার কোরক সংসদ, কোরক পত্রিকা দেশের সেরা লেখকের লেখায় পূর্ণ হয়েছিল।
ঈক্ষণের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি কবি পলটু বাসারের সভাপতিত্ব। স্মরণসভায় সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক বাসুদেব বসু, অধ্যক্ষ এমদাদুল হক, সাবেক অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, আজমলের রাজনৈতিক শিষ্য শুধাংসু সরকার, কবি শহিদুর রহমার, সাংবাদিক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, কবি সৌহার্দ সিরাজ, কন্ঠশিল্পী রোজবাবু আলোচনায় অংশ নেন।
আজমল ও টুটুলের জীবনী পাঠ করেন আবৃত্তিশিল্পী শারাবান তহুরা করবী। কবিতা আবৃত্তি করেন রাবিয়া সুলতানা রূপা। উপস্থাপনা করেন ঈক্ষণের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসুদুল হক।
সভায় বক্তারা আজমল ও টুটুলের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে কোন সড়কের নাম করণ করতে প্রস্তাব করেন।
১৯৭১ সালের ২০শে জুলাই সাতক্ষীরা শহরতলী কাটিয়ায় শহীদ টুটুলদের বাড়িতে পার্টির গোপন বৈঠকের খবর ফাঁস হয়ে যায়। তখন রাজাকার ও পাক হানাদার মিলে ঐ বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তাদের ধরে যশোর সেনানিবাসে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুদিন রাখার পর হত্যাকারি বিহারিদের হাতে তুলে দিলে তারা আজমল ও টুটুলকে আলাদাভাবে হত্যা করে।

