দুটি ছোট শিশুর বৃষ্টি উপভোগের এই দৃশ্যটি হয়তো খুব সাধারণ। অথচ এর ভেতর লুকিয়ে আছে আমাদের বদলে যাওয়া জীবনের এক গভীর গল্প।
একসময় বৃষ্টি নামলেই শিশুরা ছুটে যেত বাইরে। বৃষ্টিতে ভিজত, কাগজের নৌকা ভাসাত, জমে থাকা পানিতে পা ডুবিয়ে মেতে উঠত নির্মল আনন্দে।
কিন্তু আজকের শহুরে জীবনে সেই সুযোগ কোথায়?
এই শিশুরাও বৃষ্টি দেখতে চায়, বৃষ্টির শব্দ শুনতে চায়, প্রকৃতিকে একটু কাছ থেকে অনুভব করতে চায়। অথচ বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, নেই বড় কোনো বারান্দাও। তাই জানালার বাইরের সামান্য জায়গাটুকুই একটু গুছিয়ে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে তাদের জন্য। সেখানেই বসে তারা উপভোগ করছে বৃষ্টির আনন্দ।
কিন্তু বদলে যাওয়া শহুরে জীবনে এখন সেই জায়গাটা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে চার দেয়াল, ব্যস্ততা আর প্রযুক্তির পর্দা। স্মার্টফোন, ট্যাব আর গেম শিশুদের এনে দিয়েছে ভার্চুয়ালের এক পৃথিবী।
কিন্তু সেই পৃথিবীর ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে বাস্তবের ছোট ছোট আনন্দ—বৃষ্টিতে ভেজা, মাটির গন্ধ নেওয়া, কাগজের নৌকা ভাসানো কিংবা মেঘের দিকে তাকিয়ে থাকা।
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গিয়ে আমরা কি আমাদের শিশুদের নির্মল আনন্দগুলো ধীরে ধীরে কেড়ে নিচ্ছি?
আজ এই শিশুরা জানালার বাইরের ছোট্ট জায়গায় বসে বৃষ্টি দেখছে। হয়তো তারা জানে না, এই আনন্দের পরিসর আরও কত বড় হতে পারে। আর আমরা বড়রা, আধুনিকতার নামে নিজেদের জীবনকে যেমন ব্যস্ত ও জটিল করে তুলেছি, তেমনি শিশুদের জীবনকেও করে তুলেছি চার দেয়াল আর পর্দার ভেতর বন্দী।
অশান্ত এই আধুনিক জীবনের কোথাও না কোথাও তাই হয়তো আমাদের মনের ভেতর একটা আফসোস থেকেই যায়—
“আহা! যদি আবার ফিরে যেতে পারতাম সেই শৈশবে…”








