‘নিশ্চিত করি শোভন কর্মপরিবেশ, সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ’ এমন প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকার সাভারস্থ চামড়া শিল্প নগরীতে যৌথভাবে ‘জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২২’ পালন করেছে বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ) এবং ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন।
বৃহস্পতিবার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দিবসটি উপলক্ষ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকদের বিভিন্ন পেশাগত ঝুঁকির বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এই শিল্পের শ্রমিকদের ১০০ ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকতে হয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। এতে করে প্রতিনিয়ত শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে শ্রমিকরা। কিন্তু, শিল্প নগরীর ভেতর তাদের জন্য কোন হাসপাতালের ব্যবস্থা নেই।
সম্প্রতি, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় চামড়া শিল্প নগরী, সাভারে সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে তৈরিকৃত এই কর্মপরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন না হলে, ট্যানারি খাতে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আলোচনা সভায় এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার ও মালিকদের প্রতি জোর তাগিদ দেন বক্তারা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান রিজোয়ান, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিসিক চামড়া শিল্প নগরী। পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মো. রাজিব।
এছাড়াও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন- এর সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিক মোহাম্মদ আলী এবং কারখানাতে অগ্নিকাণ্ডের সরাসরি প্রত্যক্ষদশী রুবি বেগম নিজেদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে তাদের মতো কাউকে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে কারখানা মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।
আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর খন্দকার ফয়সাল আহমেদ। আলোচনা শেষে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের অফিস থেকে বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর অফিস হয়ে সমগ্র শিল্প এলাকা প্রদক্ষিণ করে। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক, মালিক প্রতিনিধিসহ প্রায় লোক র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন।










