বিচার বিভাগের জন্য দুর্নীতি এক বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ যে কোন ধরনের দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট মুক্ত থাকে।
শনিবার সারাদেশের বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের দেয়া অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বিচার বিভাগের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি, যা অর্থনৈতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক হতে পারে। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বুঝালেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ এবং ক্যান্সারের চেয়েও মরণঘাতী।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘বিগত দেড় দশক খুন-গুম, মামলা-হামলা, দমন-পীড়ন ও লুটপাটের মাধ্যমে নাগরিকদের ন্যূনতম মানবাধিকার কিংবা ভোটের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ৭ শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হন। ৬০ লাখের বেশি মানুষ গায়েবি মামলার আসামি হয়েছিলেন। কথা বলার স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার হরণের মাধ্যমে বিরোধী মত দমনের ইতিহাস রচিত হয়েছিল। সেই দুঃসময়ে আমাদের বিচার বিভাগ ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয়।’
অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিগত সময়ে যেসব বিচারক ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে মানুষের অধিকার হরণে ভূমিকা পালন করেছেন, তারা এখনও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এ বিষয় চলমান থাকলে জাতির কাছে ভুল মেসেজ যাবে। আইন উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতির অফিসকে এ বিষয়ে যথাযথ সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ সারাদেশের বিচারকের উপস্থিতিতে অভিভাষণ দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
ছাত্র-জনতার আন্দলোনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা।
সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিচারকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ মন্ডল ও খুলনার জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন। অভিভাষণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তা ও সারা দেশের বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন।







