ব্যাটে রান আছে। তবে সেটা ধারাবাহিক ভাবে নয়। এক সিরিজে রান করছেন তো পরের সিরিজে খরা। টেস্টে স্ট্রোক খেলতে গিয়ে দলের প্রয়োজনীয় সময়ে বাজেভাবে ফিরছেন সাজঘরে। প্রশংসার পাশাপাশি তাই সৌম্য সরকারকে ঘিরে সমানতালে চলে সমালোচনাও। কিন্তু সৌম্য চুপই আছেন। জানেন, ব্যাট হাসলে আপনা-আপনিই থেমে যাবে সব কটুকথা। তাই ব্যাটেই সব সমালোচনার জবাব দেয়ার চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা করছেন বাঁহাতি এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
সাউথ আফ্রিকা সিরিজের আগে কয়েদিনের ছুটি মিলেছে ক্রিকেটারদের। কিন্তু বসে নেই অনেকেই। যার মাঝে আছেন সৌম্যও। বেশ মনোযোগ দিয়েই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। মনোযোগ ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও দূরে থাকছেন। কারণ এই মাধ্যমগুলোতেই তাকে ঘিরে সমালোচনা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
‘এই সময়টাতে ফেসবুক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে ভালো খেললে তাকে নিয়েই আলোচনা হয় বেশি। খারাপ খেললেও সবাই কথা বলে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। ভালো-মন্দ যাই হোক, সবাই আমাকে নিয়েই কথা বলছে। এসব ভেবে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করি। সমালোচকদের জবাব দেয়ার একটাই উপায়, সেটা হল রান করা। আমি কঠোর পরিশ্রম করছি রান করার জন্য।’
একেবারেই যে খারাপ খেলছেন সেটিও নয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও আউট হয়ে গেছেন। শ্রীলঙ্কা সফরে টানা তিনটি ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন। জানালেন, লঙ্কানদের বিপরীতে যেভাবে খেলেছিলেন অজিদের বিপরীতে সেভাবেই খেলতে গিয়ে এই হাল। সেটিকে বড় ভুলই মানছেন সৌম্য।
‘শ্রীলঙ্কায় যেভাবে খেলেছি, দেশের মাটিতেও সেভাবে খেলতে চেয়েছি। কারণ শ্রীলঙ্কা আর আমাদের উইকেট প্রায় একই ধরনের। ওই ধরনের ব্যাটিং করার চেষ্টাই করেছি তাই। ব্যাটেও বল আসছিলো। শুধু একটা ভুলের কারণে আউট হয়ে যাচ্ছিলাম।’
নিজ দেশে কীভাবে খেলেছেন সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন সৌম্য। সাউথ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেটে সিরিজটা কঠিন হবে বলেও মানছেন। মানসিক প্রস্তুতিটাও নিচ্ছেন সেভাবেই, ‘কঠিন সিরিজ হবে। তারপরও তো খেলতেই হবে! চেষ্টা করবো বাউন্সি উইকেটে যেভাবে রান করা যায়, সেখানে ওইভাবে খেলতে। মানসিকভাবেও সেভাবে প্রস্তুত হচ্ছি।’







