জোরপূর্বক মদ পান করিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বনানীর রেইন ট্রি হোটেলের ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ।
১৪ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে সাফাত জানায়, ঘটনার রাতে হোটেলে মদের আসরের মূল আয়োজক ছিলেন নাঈম আশরাফ। ওই রাতে আরেক তরুণীর সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করেন নাঈম।
১০ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে সাদমান জানায়, তার মাধ্যমে সাফাতের সঙ্গে বাদীর পরিচয়। ঘটনার রাত আড়াইটার দিকে প্রথমে তিনি হোটেল ছাড়েন। এরপর সাফাতের অনুরোধে রাত সাড়ে ৪টার দিকে হোটেলে যান। তখন দুই তরুণী তাকে বলেন, তার বন্ধু সাফাত ও নাঈম তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত জানান, ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি আগে সাদমানের মাধ্যমে বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় । এরপর বাদীর সঙ্গে তিনি কয়েকবার ফোনে কথাও বলেন। তারা একসঙ্গে একাধিক দিন ঘুরেছেন। ঘটনার দিন জন্মদিনের পার্টিতে নিমন্ত্রণ করা হয় তরুণীকে। প্রথমে তিনি আসতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সাফাত জানায়, চাইলে অন্য কোনো বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে আসতে। এরপর ওই তরুণী তার কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবীকে নিয়ে ঘটনার রাতে বনানীর হোটেল রেইনট্রিতে আসেন। অনুষ্ঠানে আসার পর সুইমিংপুলে গোসল করেন তারা (দুই তরুণী)।
এরপর দ্য রেইনট্রি হোটেলের বিলাসবহুল রুমে তিনি (সাফাত) ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর একসঙ্গে পাঁচজন (দুই তরুণী, সাফাত, নাঈম ও সাদমান) মদ্যপান করেন। তরুণীদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়। এতে তরুণীরা বেসামাল হয়ে পড়লে তাদের একজনকে বেডরুমে ও অপরজনকে ড্রয়িংরুমে ধর্ষণ করেন তিনি (সাফাত) ও নাঈম। সেখানে উপস্থিত ধর্ষণ মামলার অপর আসামি সাদমান তা দেখে।
এর আগে ১২ মে সাফাতের ৬ দিনের ও সাদমানের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সাফাতের রিমান্ডের আরও একদিন বাকি থাকলেও তিনি রাজি হওয়ায় একই দিন তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে আদালতে হাজির করা হয়। ১১ মে সিলেট থেকে তাদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের কাছে পুলিশ আসামি এইচ এম হালিম ওরফে নাঈম আশরাফকে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপরাধ বিভাগ) কৃষ্ণ পদ রায় জানান, ধর্ষণের দায়ে গ্রেফতারকৃত সবশেষ আসামি নাঈম আশরাফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
গত ১১ মে সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দিন আদালতে তোলা হলে আদালত সাফাতকে ৬ দিন এবং সাদমান সাকিফকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া গত ১৫ মে সাফাতের দেহরক্ষী রহমতকে গুলশান থেকে এবং ড্রাইভার বিল্লালকে নবাবপুর থেকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে রহমতকে ৩ দিন এবং বিল্লালকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। এরপর অভিযুক্তরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে।
যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে, তাদের একজন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের ছেলে সাফাত আহমেদ।
প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান। তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।







