প্রায় ৬ বছর পর জন্মভূমি পাকিস্তানে ফিরে কাঁদলেন মালালা ইউসুফজাই। এর আগে তালেবান জঙ্গিদের গুলিতে মারাত্মক আহত হয়ে ২০১২ সালে দেশ ছাড়েন শান্তিতে কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী মালালা।
বুধবার রাতে বাবাসহ কয়েকজনের সঙ্গে ফেরেন মালালা। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে মালালা বলেন, গত ৬ বছরের প্রতিটি সময় আমি দেশে আসতে চেয়েছি, কিন্তু পারিনি। আজ আমি অনেক খুশি যে আমি দেশের মাটিতে পা ফেলতে পেরেছি। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন। মালালা কথা বলেন আর চোখের পানি মুছেন। চোখ মুছে আবার কথা বলেন।
উর্দু ও পশতু দুই ভাষায়ই কথা বলেন অক্সফোর্ডের শিক্ষার্থী মালালা। বলেন, ‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না এটি সত্য, আমি দেশে এসেছি। গত প্রায় ৬ বছর আমি দেশে আসতে চেয়েছি, দেশে আসার স্বপ্ন দেখেছি। লন্ডনে বা নিউইয়র্কে যখনই আমি প্লেনে বা গাড়িতে চড়েছি, আমি নিজেকে বলেছি যে কল্পনা করো তুমি ইসলামাবাদের রাস্তায় চলছো, কল্পনা করো এটি করাচি। কিন্তু তা কখনই বাস্তব ছিলনা, আমি এখন যা দেখছি। আমি আজ অনেক খুশি।’
মালালা বলেন, ১৯৯৯ সালে আমার জন্ম হয়েছে, কিন্তু আমি খুব বেশি কাঁদিনি। এই বলে হেসে ওঠেন মালালা। বলেন, এখন আমার বয়স ২০, কিন্তু এই সময়ে জীবনের অনেকগুলো পথ দেখে ফেলেছি। সোয়াতে বেড়ে উঠেছি, অনেক সুন্দর জায়গা সোয়াত। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সেখানে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের উত্থান দেখলাম। এরপর দেখলাম আমাদের সমাজের নারী ও মেয়েদের কত প্রতিবন্ধকতা এবং কীভাবে এসব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়।
তিনি বলেন, এরপর তো হামলার শিকার হয়ে দেশ ছাড়তে হলো, আমার সাথেই এর সবকিছু ঘটলো। আমি কোনকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, যদি আমার বলার সুযোগ থাকতো তাহলে আমি কখনই দেশ ছাড়তাম না। কিন্তু চিকিৎসা এবং পড়াশোনার জন্য যেতেই হলো। কিন্তু আমি সবসময়ই স্বপ্ন দেখতাম আমি দেশে ফিরবো, ভয়হীনভাবে দেশের মাটিতে হাটবো, দেশের মানুষের সঙ্গে কথা বলবো। এটি সত্যিই ভালোলাগার বিষয়।
দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বড় সম্পদ অভিহিত করে মালালা বলেন, শিশু শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মালালা ফান্ড ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ করছে। নারী শিক্ষায় ৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছি। আমি আশাবাদী পাকিস্তানের ভালোর জন্য হাতে হাত রেখে কাজ করতে সকলে যোগ দিবো, যেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম শিক্ষার অধিকার পায় এবং নারীর ক্ষমতায়ন হয়, নারীরা যেন চাকরি করতে পারে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।
দেশে ফেরায় মালালাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আব্বাসি। মালালার উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি যে জাতির মেয়ে ঘরে ফিরেছে। যখন তুমি দেশ ছাড়ো তখন তোমার বয়স ১৩ বছর, আজ তুমি দেশের সবচয়ে জনপ্রিয় নাগরিক। পুরো বিশ্ব তোমাকে সম্মান জানিয়েছে এবং পাকিস্তানও জানাবে। এটি তোমার দেশ, তুমি সাধারণ কোন মানুষ নও এবং তোমার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের।
মালালা ইউসুফজাই ২০১২ সালে শিক্ষায় নারীদের অধিকার বিষয়ে প্রচারণা চালানার ‘অপরাধে’ তালেবানদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন।
তালেবান নেতৃত্বের অধীনে পাকিস্তানে তার জীবন নিয়ে লেখার পর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে গুলি করা হয়।







