দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের উপর হামলাসহ বিভিন্ন স্থানে যেসব হত্যাকাণ্ড ও হামলা ঘটানো হয়েছে, তার সবগুলো দেশী জঙ্গিরাই ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
রোববার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, অনেকেই দাবি করেছে এসব ঘটনায় আইএস বা আল কায়েদা ঘটিয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে আইএস বা আল কায়েদার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সারা বাংলাদেশের মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছিলো দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে হবে। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টায় জঙ্গিবিরোধী অভিজানে সরকার সফল হয়েছে। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই, তার এখনো ষড়যন্ত্র করে চলছে। এরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে থাকে। মাঝে মধ্যে আত্মপ্রকাশ করে অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সকল যড়যন্ত্র ও বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, ‘ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে খুন করেছিলো, কিন্তু তারা ১৬ কোটি বাঙালির বুকের বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলতে পারেননি। বাঙালির হৃদয় থেকে বঙ্গবন্ধুকে কখনোই মুছে ফেলা যাবে না।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছো, নিঃসন্দেহে তোমরা অত্যন্ত মেধাবী। ইয়াবা বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে তোমরা তোমাদের শক্তিকে নষ্ট করবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নিজ মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তোমরা মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠো।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চলের সঞ্চালনায় সভায় প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল হোসেন, প্রো-উপাচার্য(প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শফিউর রহমান সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারি ও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।







