জঙ্গি-সন্ত্রাস থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রােধে শিক্ষক, আলেম সমাজ, ইমাম, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবক সহ সবাই সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বুধবার ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণে এ আহ্বান জানা তিনি।
বক্তব্যে ঢাকা বিভাগকে ভেঙে আরও একটি নতুন বিভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। ঢাকা ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করার পর ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরকে নতুন বিভাগ হবে বলে জানা প্রধানমন্ত্রী। তবে নতুন বিভাগের নাম কি হবে সেটা উল্লেখ করেননি তিনি।
বিএনপি ও জামায়াতের সহিংস আন্দোলন ও দুর্নীতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এদেশের জনগণের জন্য তারা কোনো কাজ করে না। শুধু নিজেদের লাভের জন্য ব্যস্ত থাকেন।
তিনি বলেন, আমরা যখন উন্নয়নের জন্য কাজ করি, বিএনপি-জামায়াত তখন দুর্নীতি করে। আমরা মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করি, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করি। আমাদের বিদ্যুতের উন্নয়নের কারণে আজ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত সেবা পাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছেন উন্নয়ন পেয়েছেন। ২০০৮ সালে ও ২০১৪ সালে নৌকায় ভােট দিয়ে বিজয়ী করেছেন সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও নৌকা মার্কায় ভোট চান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ গরিবের বন্ধু। এদেশে একটি মানুষও গরিব থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। যাদের ঘর-বাড়ি নাই তাদের ঘর-বাড়ির ব্যবস্থা আমাদের সরকার করে দিচ্ছে।
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কথা উল্লেখ করে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কাজ লেখাপড়া করা, তারা শুধু লেখাপড়া করবে, কোনোভাবেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের পথে যাওয়া যাবে না।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রােধে শিক্ষক, আলেম সমাজ, ইমাম, জনপ্রতিনিধি ও অভিভাবক সহ সবাই সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার মধ্যে রয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প; ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প; পল্লী কবি জসীম উদ্দীন সংগ্রহশালা নির্মাণ প্রকল্প; ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি নির্মাণ প্রকল্প; শিশু একাডেমী নির্মাণ প্রকল্প; কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প; জেলা মুক্তিযোদ্ধ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প; আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর এর নির্মাণ প্রকল্প; ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণ প্রকল্প; সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল নির্মাণ প্রকল্প; সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়াঘাট হতে বিলমামুদ পুর স্কুল সড়কে কুমার নদীর উপর ৯৬.০০ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প; ভাংগা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্প; মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা হতে ৫০ শয্যায় মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প; আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, ফরিদপুর এর নির্মাণ প্রকল্প; বিএসটিআই ভবন নির্মাণ প্রকল্প; ভাংগা থানা ভবন নির্মাণ প্রকল্প; মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প; সদর উপজেলা হতে বাখুন্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চরনিখুরদি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প; ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সিডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ প্রকল্প; ৩৩/১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।










