সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামির অন্যতম সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী জঙ্গি দেলোয়ার হোসেন রিপনের সঙ্গে দেখা করেছেন তার স্বজনেরা।
রোববার দুপুরের পরে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে এসে রিপনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যান তার পরিবারের লোকজন। সেখানে তার চাচা আব্দুন নুর, চাচি আজিজুন্নেছা, চাচাতো বোন রুমেনা, ফুফাতো বোন লুৎফা বেগম ও ফুফাতো ভাই জাবির হোসেন তার সঙ্গে দেখা করেন।
সিলেট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ছগির মিয়া বলেন, ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত রিপনের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করে গেছেন কিছু স্বজন। সোমবার ফের শেষবারের মতো দেখা করতে আসতে পারেন তার বাবা-মাসহ আরো আত্মীয়-স্বজনেরা।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিলেও ফাঁসি কার্যকরের ব্যাপারে এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। এখন শুধু নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি’।
রাষ্ট্রপতির কাছে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পরদিন দেখা করেন তারা।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জঙ্গির মধ্যে অন্য দু’জন প্রধান আসামি নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলকে রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে। তাদেরও প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।
মামলার বিচার শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন।
প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ১৪ জুন রায় হাতে পাওয়ার পর ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন।
আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। গত ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা রিভিউ করেন। রোববার (১৯ মার্চ) দেওয়া রিভিউ খারিজের রায় মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।







