দেশকে সন্ত্রাসের পথে না নিতে আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জঙ্গিবাদের পথ থেকে ফিরে আসবে সরকার তাদের পুর্নবাসনের উদ্যোগ নেবে।’
২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮ বছর আগে সর্বশেষ ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনের আগে মাগুরায় এসেছিলেন শেখ হাসিনা।
বিএনপি নির্যাতনে রাজনীতি করে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করে। এই মাগুরাবাসীর মনে আছে, কারা ১৯৯৬’র আগ পর্যন্ত কি করেছে। ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। হিন্দু সম্প্রদায়ে মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে।’
এসময় তিনি বিএনপি সরকারের সময় নির্যাতনে নিহত কয়েকজনের নাম স্মরণ করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে পারলে মানুষ পুড়িয়ে মারে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে না এসে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। নির্বাচনের আগের দিনই ৫৮২টি নির্বাচনী কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিলো। তারা প্রিজাইডিং অফিসার থেকে ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করেছে। তারা ধর্মের কথা বলে আবার কোরান পুড়িয়ে দেয়।’
২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রত্যেকটা মানুষ বিদ্যুৎ পাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন ৮০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে আর একটি মানুষও বিদ্যুৎ বঞ্চিত থাকবে না। আমরা এরই মধ্যে ১১৫টি বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করেছি।
জেলা সদরের কেন্দ্রে বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জাম্না স্টেডিয়ামে যখন প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছান তার আগেই আশপাশ কানায় কানায় পূর্ণ। ব্যানার ফেস্টুন, মিছিল স্লোগানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসভায় ছিলো উৎসবের আমেজ।
মাগুরার কৃতিসন্তান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকে উদ্ধৃত করে বক্তৃতা শুরু করে প্রধানমন্ত্রী মাগুরাবাসীর জন্য রেল লাইন করে দেয়ার ঘোষণা দেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ অনুপস্থিত থাকলে তা অনুসন্ধান করার আহ্বান জানিয়ে এলাকার কোন সন্তান যেন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসে না জড়ায় সেদিকে দৃষ্টি দিতে অভিভাবক, শিক্ষক ও ইমামদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মাগুরায় এসে কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন এবং নতুন কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।







