জঙ্গিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে অনেক কাজ হচ্ছে, কিন্তু তাদের সংশোধন বা স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনরা। এ জন্য কারাগারে সংশোধনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (আইসিসিবি) আয়োজিত উগ্রবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী দিনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ বিষটি উল্লেখ করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এবং ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।
আইজিপি বলেন, ২০১৬ সালে হলি আর্টিজানে হামলা পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে বেশ কিছু অভিযান হয়েছে। আমরা জঙ্গিদের এনকাউন্টার করেছি, ধংস করেছি বলেই এখন আপনারা এর সুফল ভোগ করছেন। কিন্তু এর বাইরে আমরা যেসব উগ্রবাদীদের ধরে কারাগারে প্রেরণ করছি, সেই জায়গাটিতে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কারাগারে যেসব জঙ্গি বা উগ্রবাদীরা রয়েছেন, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ডি-রেডিক্যালাইজড প্রোগ্রাম জোরদার করা উচিত।
‘বাহিরে জঙ্গিদের চিহ্নিত করা, গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং কারাগারে প্রেরণে যতটা কাজ হচ্ছে, কিন্তু কারাগারে ডি-রেডিকালাইজেশনের ব্যপারে আমরা ততটা সচেতন নই। এই জায়গায় আমাদের কিছু কাজ করতে হবে। আমি এ সম্মেলনে এ ধরনের কোন এনজিও দেখলাম না যারা কারাগার আসামিদের সংশোধনের বা ডি-রেডিক্যালাইজেশনে কাজ করে। কারাগারের এই আসামিদেরকে ডি-রেডিক্যালাইজড করার জন্য প্রোগ্রাম নিতে হবে।’
যেসব জঙ্গিরা কারাগার থেকে ফিরে বাইরে আসছে তাদের পুনর্বাসন একটি পরিকল্পনা করতে হবে বলে মনে করেন আইজিপি।
তিনি আরও বলেন, প্রিভেনশন ইজ অলওয়েজ বেটার দ্যান কিওর। এই লক্ষ্য সামনে নিয়ে জঙ্গিবাদের বিস্তার বন্ধে আমাদের এন্টি টেররিজম ইউনিট, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে কাজ করছে।
জঙ্গিবাদ নির্মূলে মোটিভেশনাল কাজের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই কাজটি (মোটিভেশন) সবচেয়ে বেশি কার্যকরভাবে করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের বাণী মানুষ খুব সহজে গ্রহণ করে। আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাংলাদেশের মসজিদ গুলোর ইমামদেরকে মাদক, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রচার করতে বলেছি। এর ফলে যাদের জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার ঝুকি রয়েছে, তারা ধর্ম সুষ্ঠু ব্যাখ্যা পেয়ে আর এ পথে ঝুঁকবেন না।
অনুষ্ঠানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের যদি আরেকটি হলি আর্টিজানের মত ঘটনা ঘটতো, তাহলে আমাদের সব উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতো। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতুর, রূপপুরের প্রজেক্টের বিদেশী এক্সপার্টদের ধরে রাখা যেত না। তবে আমরা এ ধরনের কোনো ঘটনা হতে দেইনি।

তিনি বলেন, আমি যখন এন্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান ছিলাম, তখন দেখেছি উগ্রবাদের সঙ্গে জড়িত ৯০% আহলে হাদিস সম্প্রদায়ের। আমরা এদের সাথে কথা বলেছি, এদের অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা বলেছে, তারা শুধুমাত্র তাদের সম্প্রদায়ের বড় হুজুরের কথা শুনবে ও মানবে। আলেমদের একাংশকেও তারা ‘কাফের’ বলে মনে করেন। তাই উগ্রবাদ রুখতে ধর্মীয় নেতাদের বড় একটি ভূমিকা পালন করতে হবে।
ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, আমরা একটা জায়গায় পিছিয়ে রয়েছি। যেসব জঙ্গিদের ধরে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে তাদের ডি-রেডিক্যালাইজেশন প্রক্রিয়ায় ঘাটতি রয়েছে। তারা কারাগারে গিয়েও সংশোধন হতে পারছে না।








