সাবিকুন্নাহার লিপি, জবি প্রতিনিধি: ডাকসু নির্বাচন ঘোষণার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এজন্য আইন সংশোধনসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরণের পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ছাত্রসংগঠনগুলো।
বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শোভা পাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচনের (জকসু) দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর ব্যানার, পোস্টার ও দেয়াল লিখন।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তারা পদক্ষেপ নিবেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে জগন্নাথ কলেজে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ পায়। তবে ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় আইনে রাখা হয়নি ছাত্র সংসদের বিধান। আর তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ছাত্র নেতারা।
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যখন বিশ্ববিদ্যালয় আইন হয় তখন আইনে ছাত্র সংসদের বিধান রাখা হয়নি। আমরা উপাচার্যসহ সবার সাথে কথা বলছি অতি শিগ্রই যেন সামনের সিন্ডিকেটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আইন পাশ করা হয়। আমরা চাই অতি দ্রুত নির্বাচনটা হোক।
জবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্যের সাথে যুক্ত। আমরা দাবি জানাই ডাকসু নির্বাচনের অপেক্ষা না করে দ্রুত আইন সংশোধন করে যাতে জকসু নির্বাচন দেওয়া হয়।
জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিফতাহ আল ইহসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে জকসু অন্তর্ভুক্ত হোক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে জোয়ার উঠেছে এ জোয়ারের মধ্য দিয়ে যেন সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে জকসু নির্বাচনের বিষয়টি বিবেচনা করার কথা ভাবছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জবি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমাদেন আইন পরিবর্তন করতে হবে, আমরা তা করব। আইন প্রণয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেই হয়ত আমরা ইচ্ছা করলেই নির্বাচন দিতে পারব।
‘‘তবে আমরা আগে একটু দেখতে চাই ডাকসু নির্বাচনটা, কারণ এর আগে কয়েকবার ডাকসুর ঘোষণা করে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করা যায়নি। আমরা দেখি সমস্যাগুলো কি হয় বা সুবিধা- অসুবিধাটা কি হয়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।’’







