সিলেটের শিববাড়ির দক্ষিণ সুরমার আতিয়া মহলে অভিযানে নিহত চার জঙ্গির বাকি দুই জঙ্গি লাশ এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ভেতরে বোমা থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হচ্ছে। মরদেহের দুর্গন্ধে ঘরে টিকতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা।
সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই ভবনে অবিস্ফোরিত বোমা থাকতে পারে। ফলে বোমা নিস্ক্রিয়করণ দল এসে পরীক্ষার পূর্ব পর্যন্ত আতিয়া মহলের ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। ফলে মরদেহ দুটিও উদ্ধার করা যাচ্ছে না।
ছয়দিন গ্যাস-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রায় বন্দি অবস্থায় ছিলেন সিলেট নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের বৃহত্তর শিববাড়ি এলাকার বাসিন্দারা। তার উপর ছিলো গুলি-বোমা-বিষ্ফোরণ আর উদ্বেগ-আতঙ্ক। গুলি-বিস্ফোরণ থেমেছে, যান চলাচল বন্ধ থাকা সড়কগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন উপদ্রব হয়ে দেখা দিয়েছে লাশের দুর্গন্ধ নিয়েই।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. দেবপদ রায় বলেন, বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার লোকজন শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগতে পারেন। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে সমস্যায় পড়বে শিশুরা।
জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে গত ২৩ মার্চ বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঘিরে রাখা হয় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহল নামের বাড়িটি। পরদিন শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট সিলেটে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থল ঘেরাও করে।
এরপর শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দল ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। দুপুর নাগাদ ওই বাড়িতে জিম্মি হয়ে থাকা ২৮ পরিবারের ৭৮ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সেনাবাহিনী। তবে রাতে অভিযানস্থলের বাইরে ৩০০ গজ উত্তরের রাস্তায় দুই দফা বোমা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪৪ জন আহত হন।
২৭ মার্চ সোমবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযান সমাপ্তির কথা জানিয়ে বলা হয়, ওই ভবনের নিচতলায় চারজনের মরদেহ পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে পরে দুজনের লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আতিয়া মহল থেকে উদ্ধার হওয়া অন্য দুই জঙ্গির মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে শনিবার পুলিশের উদ্যোগে দাফন করা হয়েছে। বিকেলে নগরীর মানিকপীর গোরস্থানে তাদের দাফন করা হয় বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা।








