‘ফ্রি হিটে’ ছক্কা মেরে দেয়ার মতোই ব্যাপার। প্লেয়ার্স ড্রাফটে লটারিভাগ্যে প্রথম কল পেয়ে মাশরাফীকে বেছে নিয়েছে প্রথম বিভাগ থেকে প্রিমিয়ার লিগে আসা শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে বাগিয়ে নিলেও দলে নেই আর কোনো তারকা ক্রিকেটার। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফর্মারদের মধ্যে আছেন কেবল শুভাগত হোম। দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই নবীন।
বাংলাদেশের বর্তমান স্কোয়াডের মধ্যে আছেন কেবল সাইফউদ্দিন। বাঁহাতি স্পিনার নাঈম ইসলাম জুনিয়র লিগে মোটামুটি নাম করেছেন। এছাড়া আফিফ হোসেন ধ্রুব, তৌহিদ হৃদয়, সাদমান ইসলাম, আলী আহমেদ মানিকের মতো তরুণ যারা আছেন, তারা মাঝেমাঝে ঝলক দেখালেও পরিচিত কিংবা ধারাবাহিক পারফর্মার বলতে যা বোঝায় সেখানে পৌছাতে পারেননি। দলের বাকি নামগুলো অখ্যাত- রায়হান উদ্দিন, তৌহিদ তারেক খান, ফারদিন হাসান অনি, সুজন হাওলাদার। এমন দল নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগ পথ পাড়ি দিতে হবে মাশরাফীকে।
প্রিমিয়ার লিগের দুই মৌসুম আগেও এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল মাশরাফীর। সেবার প্লেয়ার্স ড্রাফটে ছক্কা হাঁকিয়ে মাশরাফীকে নেয় কলাবাগান ক্রীড়া চক্র। কিন্তু বাকি ক্রিকেটারদের মধ্যে ছিল না কোনো ম্যাচ উইনার বা ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিজ্ঞদের কেউ। মাশরাফী ব্যাটে-বলে দারুণ লড়লেও নবীন ক্রিকেটারদের নিয়ে সেরা ছয়ের সুপার লিগে উঠতে পারেনি তার দল। এক মৌসুম পর আবার দলবদলে ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ পদ্ধতি ফিরতেই ছোট দলের বড় তারকা বনে যেতে হল অধিনায়ককে।

এত বড় মাপের একজন ক্রিকেটারের জন্য এবারও নবীন ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলা বিব্রতকর হবে কী না-এমন প্রশ্নে বিসিবি পরিচালক ও আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন বললেন, ‘মাশরাফী সবসময় চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে। ইয়াং টিমের অধিনায়কত্ব করে সামনের দিকে নিয়ে যাবে এটাই ক্যাপ্টেনের বড় গুন। সেরা ১১ জন নিয়ে হয়ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া সহজ। কিন্তু মাশরাফী যে কোনো টিমেই…যদি বিপিএলের কথাই বলি। কজন মনে করেছিল রংপুর রাইডার্স চ্যাম্পিয়ন হবে। ঢাকা, কুমিল্লা বা খুলনা নামের দিক থেকে এগিয়ে ছিল। কিন্তু রংপুরকে মাশরাফী চ্যাম্পিয়ন করেছে। ইয়াং টিমে মাশরাফীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে, সেটা মাশরাফী দক্ষতা দিয়ে মোকাবেলা করবে। চ্যাম্পিয়ন হবে কী হবে না এটা গুরুত্বপূর্ণ না। টিমটাকে কতদূর নিয়ে যেতে পারে সেটা হল বড় কথা।’
প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে হয়েছিল দলবদল। মাশরাফীকে নিয়েছিল লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ। যে দলে তিনি পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ শরিফ, নাঈম ইসলাম, মাহমুদুল হাসানের মতো অভিজ্ঞদের।
এক মৌসুম বিরতি দিয়ে আবার ‘প্লেয়ার বাই চয়েজ’ ফেরায় খড়গটা নেমে এসেছে মাশরাফীর উপর। লটারিতে পেয়ে তাকেই লুফে নেন সবাই। অথচ তার সতীর্থ কারা হচ্ছেন সে ব্যাপারে দিশাহীন ক্লাবগুলো। মাশরাফীকে পেলেই যেন হল!







