কী দম্ভ আপন জুয়েলার্সের দিলদার হোসেন সেলিমের! তার ছেলে ধর্ষণ করেছে, এটা কোনো ব্যাপারই না তার কাছে। তিনি একটি দৈনিককে বলেছেন- ‘আরে মিয়া, আমার পোলা আকাম (ধর্ষণ) করছে তো কি হইছে। জোয়ান পোলা একটু-আধটু করবোই। আমিও তো করি। আমার যৌবন কি শেষ হয়ে গেছে? আমি এখনও বুড়া হইনি।’
এই হচ্ছেন বাবা। ‘গর্বিত’ বাবা। তাকে সোনার মেডেল দেয়া উচিত। তাকে আরো যা যা দেয়া যায় সব দেওয়া উচিত। কতটা আত্ম-অহংকারী আর ক্ষমতাশালী হলে এভাবে কথা বলতে পারে। কতটা ‘পারভার্টেড’ হলে খোলামেলাভাবে একজন সাংবাদিককে এ কথা বলতে পারে। তার এভাবে বলার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। সে জানে তার ছেলের এই অপকর্ম কোনো ঘটনাই না। ছেলে এগুলো হরহামেশাই করে থাকে। বাবা নিজেও এসব অপকর্ম করে বেড়ায়। তার ছেলে নিজেও বলেছে, এরকম কাজ এর আগেও অনেক করেছে।
আমরা কোন সমাজে বাস করি? যেখানে একজন বাবা তার ছেলের অপকর্মের কথা বলতে গিয়ে নিজের চরিত্রকে উন্মোচন করতে কোনো দ্বিধাবোধ করে না! আর তার এই দম্ভের পেছনে রয়েছে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি? তাকে খুঁজে বের করা দরকার। কার জোরে সে এরকম কথা বলতে পারে জনসমক্ষে! ধর্ষণ ঘটনার পরে অনেক ক্ষোভ প্রকাশিত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকে বলেছেন তারা আপন জুয়েলার্সকে বয়কট করবে। এসব আবেগ একসময় থেমে যাবে। ভুলে যাবে কালের হাওয়ার ধাক্কায়, জীবনের বাস্তবতায়। কিন্তু আদৌ কি প্রকৃত বিচার হবে ধর্ষকদের?
আমরা সব মেনে নেই। মেনে নিতে নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কারণ আমাদের বিচার ব্যবস্থায় অনেক ফাঁক রয়েছে। সেই আইনের ফাঁক ফোকর গলে একদিন ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্তরা বেরিয়ে আসবে। আমরা টের পাবো না, বা জানবোও না। কারণ তাদের বাবার রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। তাদের জেলখানায় থাকতে হবে না। অসুখের কথা বলে তারা মাসের পর মাস কাটাবে কোনো অভিজাত হাসপাতালে, আরাম আয়েশে। এ দেশে তো এরকম ঘটনা ঘটছেই, পত্রিকা খুললেই দেখা যায়।
প্রভাবশালী অপরাধীরা থাকছে হাসপাতালে। পরে পত্রিকায় খবর হওয়ার পর আবার জেলখানায় চলে যাচ্ছে। এটা কি মেনে নেয়ার মত ঘটনা? আমরা চাই, শুধু ছেলে না, ছেলের বাবা, যিনি বলতে পারেন তার জোয়ান পোলা এরকম একটু-আধটু করতে পারে। তার বিচার হওয়া দরকার। কারণ এ রকম বাবার রক্তের ধারা প্রভাবিত তার ছেলের শরীরে। সুতরাং ছেলে তো বাবার মতই হবে। বাবার যত খারাপ গুণ, বলা যায় ‘উত্তরাধিকার’ সূত্রেই ছেলে পাবে। আর তার খেসারত দিতে হয় বহু নারীকে।
এ দেশের আইনজীবীদের কাছে দাবি, এরকম অপরাধীদের পক্ষে আপনারা কাজ করবেন না। কারণ আজ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর সর্বনাশ করেছে। আপনারা অর্থের বিনিময়ে তাদের পক্ষে কোর্টে সাফাই গাইছেন। কাল ছাড়া পেয়ে আপনার ঘরের মেয়ে বা বোনের সর্বনাশ করবে না, সেই কথা কি নিশ্চিত করে বলতে পারেন?
সবশেষে দেশের সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ, এই বাবা দিলদার হোসেন সেলিমের বিচার হওয়া দরকার। কতটা দম্ভের সাথে বলেছেন, জোয়ান পোলা একটু আধটু তো করবোই। আমাদের দেশের মানুষ এখনো নৈতিক মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসী। এখনো আমরা ইউরোপ-আমেরিকার মত হইনি। যেখানে একজন বাবা এরকম কথা বলতে পারে অবলীলায়।
আমরা সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় থাকলাম এই আশায়, আমাদের বিচার ব্যবস্থা এই পারভার্টেড বাবার বিচার করবে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








