ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবী মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতির শক্তি আরো একবার প্রকাশিত হলো বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে তারা বলেন, এমন অর্জন শুধু সরকারকেই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদেরও সতর্ক করবে।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সব মহলই। এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি গোলাম রহমান।
তিনি বলেন, এই বাড়তি ভ্যাট শুধু শিক্ষার্থীদের উপর অর্থনৈতিক চাপই শুধু নয় বরং এক ধরনের মানসিক চাপ। তাই এটা প্রত্যাহারের দাবি ছিলো শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে পুরো দেশের নাগরিকরাও তাদের দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছিলো। অবশেষে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রের সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা দরকার বলেও মনে করেন ড. রহমান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আমরা এই ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে শুরু থেকেই ছিলাম। অবশেষে যে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে সেটা অবশ্যই শুভেচ্ছা পাওয়ার যোগ্য।
‘অর্থমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা কখনোই ইতিবাচক ছিলো না। তবে একজন অর্থমন্ত্রীকে দিয়েই যে সরকার নয় সেটাও আবার প্রমাণিত হলো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু দেশের একটি বড় অংশ। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আগে অদৃশ্য ছিলো। তবে এবার টের পাওয়া গেলো যে তারাও একটি নির্দিষ্ট ক্ষমতা কাঠামোর মধ্যে রয়েছে।’
আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই অর্জনের পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তাদের এখন আরো বেশি বেশি করে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে। তাদের এই অর্জন শুধু সরকারকেই নয় বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদেরও সতর্ক করবে। তারা কোনো অন্যায় করতে চাইলে সেসবের বিরুদ্ধেও নিশ্চয়ই এখন এভাবে প্রতিবাদ করবে শিক্ষার্থীরা। তাই এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের উদ্দেশ্যে বলতেই হবে- সাধু সাবধান।
‘শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের’ আহবায়ক রাখাল রাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ভ্যাট প্রত্যাহার হয়ে যাওয়ার এই ঘটনা আসলেই একটি বড় প্রাপ্তি।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যে রাজনৈতিক ইতিহাস সেখান থেকে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা এখন একেবারেই নিঃশেষ হয়ে গেছে। তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যারা কিনা তৈরিই হয়েছিলো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে সেই কথা বলে, সেখান থেকে এমন একটি অর্জন নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার।
এই অর্জন দিয়ে রাজনীতির শক্তি আরো একবার প্রকাশিত হলো বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর মধ্যে দিয়ে ছাত্র রাজনীতির শক্তি আরো একবার প্রকাশিত হলো। অরাজনৈতিক ছাত্রদের একটি আন্দোলনে এমন সফলতা অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রমাণিত হলো মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে সবসময় রাজনীতির একটি পথ বের করে ফেলবে।
তবে এটাকে একটা অ্যালার্মিং কাজ বলেও অভিহিত করে রাখাল রাহা বলেন, সেটা সমাজের জন্য নয়, সরকারের জন্য। এখন হয়তো দেখা যাবে, তাদের কি করে নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে সরকার।






