ওভালে বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে মাশরাফিবাহিনীর প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। গ্রুপে পরের দুই ম্যাচ বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। কাগজে-কলমে যেটি গ্রুপ অব ডেথ! শক্তিশালী গ্রুপ সঙ্গীদের ভীরে বাংলাদেশ কেমন করবে, এই আলোচনা সর্বত্র। তবে টাইগারদের ভাল সম্ভাবনাই দেখছেন নাজমুল আবেদিন। তার মতে, বাংলাদেশের তরুণ ক্রিকেটাররাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাতে সেমিফাইনালে খেলাও অসম্ভব নয়।
আইসিসি ওয়ানডে টেবিলের ছয়ে ওঠার তৃপ্তি নিয়ে ১ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তার আগে বিকেএসপির সাবেক কোচ ও বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের ম্যানেজার নাজমুল আবেদিন ফাহিম চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে দলীয় সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়েদিলেন।
সাকিব-তামিম-মুশফিকদের বেড়ে ওঠা খুব কাছে থেকে দেখা এই কোচ বললেন, ‘আমাদের এখন যেকোনো সময় যেকোনো দলকে হারানোর শক্তি আছে। একটা সময় ছিল আমরা ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকে হঠাৎ করে হারাতাম। হঠাৎ করে ঘটে যাওয়ার মতো একটা ব্যাপার ছিল। এখন আশাই করতে পারি ইংল্যান্ডকে হারাবো, অস্ট্রেলিয়াকে হারাবো; সেটা এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই। আমি খুবই আশাবাদী। দলে তরুণ খেলোয়াড়রা যারা আছে, তারা খুবই আক্রমণাত্মক মেজাজের; তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। মোস্তাফিজ, সাব্বির, মোসাদ্দেক, মিরাজের কথা বলছি। সবকিছু মিলে আমাদের দল খুবই ভারসাম্যপূর্ণ।’
চোটের ধকল কাটিয়ে ঠিক সময়ে মোস্তাফিজের ফেরা বাংলাদেশকে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন নাজমুল আবেদিন, ‘বোলিংয়ে আমাদের যে সঙ্কট ছিল সেটি কাটিয়ে উঠেছি। সম্প্রতি বাংলাদেশের বোলিংটা অনবদ্য হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে মোস্তাফিজ দারুণভাবে ফিরে এসেছে। এটি আমাদের বোলিং বিভাগকে অনেক বেশি শক্তি জোগাবে। বোলিং ও ফিল্ডিংটা যদি ঠিক মতো করতে পারি, আমাদের সামনে ভাল সময় অপেক্ষা করছে। সেমিফাইনালে উঠতে আমরা পারব কিনা জানি না, তবে সেমিফাইনাল খেলা অসম্ভব নয়।’
ব্যাটিং নিয়ে ভাবনার কিছু দেখছেন না নাজমুল আবেদিন। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে জুটি গড়ে ম্যাচের মোমেন্টাম নিজেদের পক্ষে টেনে আনার কথা বললেন, ‘মানসিক শক্তি ধরে রাখার জন্য যেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটি হলো ব্যাটিংয়ে টপঅর্ডারেই ভাল একটা পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচ নিজেদের দিকে রাখা। এক নম্বর ও দুই নম্বর; এই দুইটার মধ্যে একটি বড় জুটি করতেই হবে। মিডলঅর্ডার যাতে নির্ভার বোধ করে। ড্রেসিংরুম যেন নির্ভার থাকতে পারে। প্রথমদিকে যদি জুটি গড়তে পারি, তিনশ পেরনো সংগ্রহ গড়তে না পারার কোন কারণ নেই। সেটি করতে পারলে যথেষ্ট সাহস নিয়ে বোলাররা বল করতে পারবে।’
ব্যাটিংয়ে তামিম ইকবালের পরিকল্পনার প্রশংসা করলেন নাজমুল, ‘তামিম ইকবালকে দেখছি খুব স্টেবল একটা অবস্থানে থেকে খেলছে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে খেলছে। খুব আক্রমণাত্মক না, আবার স্থিরও থাকছে না। নিজেকে ধরে রাখার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে অন্যরা পার্টনারশিপ গড়ার চেষ্টা করছে। এটা খুবই ভাল লক্ষণ।’








