চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এ গ্রুপের ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাউথ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রোটিয়াদের শুরু থেকেই মাথা উঁচু করে খেলতে দেয়নি বাংলার জুনিয়র টাইগাররা। ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আট বল বাকি রেখে প্রোটিয়ারা অল আউট হয় ১৯৭ রানে।
ওপেনার লিয়াম স্মিথ একাই করেন ১০০ রান। টাইগার যুবাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এ প্রোটিয়াদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান আসে ড্যায়ান গ্যালিয়ামের ব্যাট থেকে।
প্রোটিয়াদের শুরু থেকেই মাথা উঁচু করে খেলতে দেয়নি বাংলার জুনিয়র টাইগাররা। দলীয় ৫ রানের মাথায় ওপেনার কাইল ভেরানেকে সাইফের হাতে বন্দী করে প্রোটিয়া নিধন সূচনা করেন অধিনায়ক মিরাজ।
দলীয় ২৭ রানের মাথায় দারুণ এক ইর্য়কারে সরাসরি বোল্ড করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দুই উইকেট খুঁইয়ে দেখে শুনে জুটি গড়ার চিন্তা করছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা। লিয়াম স্মিথ এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য প্রান্তের কোন ব্যাটসম্যানরাই জুনিয়র টাইগারদের বোলিংয়ের জবাব দিতে পারেনি।
দলীয় ৪৪ রানে জর্জিকে আবারো বোল্ড করে আনন্দে ভাসেন সাইফ উদ্দিন। দলীয় ৬০ রানে মুনস্যামিকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সাইদ সরকার। তবে নিজের হাফ সেঞ্চুরির পর ব্যক্তিগত ৫৬ রানে স্মিথের সহজ ক্যাচ ধরতে পারলে আরো আগেই টাইগারদের জয় উল্লাস হতো।
তবে সেঞ্চুরি করে বেশীদূর এগিয়ে যেতে পারেনি লিয়াম স্মিথ। সালেহ আহমেদের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে লং অফে ঝাঁপিয়ে পড়ে দূর্দান্ত এক ক্যাচ ধরে জুনিয়র টাইগার কাপ্তান মিরাজ।
সাজ ঘরে ফেরার আগে স্মিথ ১৪৬ বলে নয় চার ও একটি ছয়ে ঠিক ১০০ রান করেন।
শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৬৩ রান, আর বাংলাদেশের ২ উইকেট। তবে ৮ বল বাকি থাকতেই দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের জয়ে তুলির শেষ আঁচড়টা দেন অধিনায়ক মিরাজ। হোয়াইটহেডকে ফিরিয়ে প্রোটিয়াদের ইনিংসের ইতি টেন দেন মিরাজ।
অবশ্য হোয়াইটহেডের ক্যাচটা নিয়েছেন ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো শান্তই। ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও উঠেছে তার হাতেই।
এর আগে বাংলাদেশ টসে জিতে, ব্যাট করতে নেমে দুই ওপেনার পিনাক ঘোষ আর সাইফ হাসান ৩০ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন। সাইফ আউট হয়ে গেলেও নিজের জাত চেনান পিনাক ঘোষ। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে রান আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে চারটি চার আর দুই ছয়ে ৪৩ রান করেন পিনাক।
মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত সর্বোচ্চ ৭৩ আর জয়রাজ শেখের ৪৬ রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৪০ রান করে জুনিয়র টাইগাররা।শান্ত ৮২ বলে চারটি চার আর তিন ছয়ে ৭৩ অপরদিকে জয়রাজ ৫০ বলে ছয় চার আর এক ছয়ে ৪৬ রান করেন।এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২৩ রান করেন।






