১৯৯২ বিশ্বকাপে বৃষ্টি আইন, ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অ্যালান ডোনাল্ডের গাপলাটে সেই দৌড় কিংবা ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জিততে জিততে হেরে যাওয়া- বিশ্বকাপ মানেই যেন সাউথ আফ্রিকার হৃদয়ভাঙার গল্প। প্রতিবারই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে প্রোটিয়ারা। শেষ পর্যন্ত চোখের জলে খালি হাতেই ফিরতে হয় তাদের। যার কারণে সাউথ আফ্রিকাকে ‘চোকার্স’ উপাধিও দেয়া হয়!
২০১৫ বিশ্বকাপের পর সাউথ আফ্রিকা দল অনেকটাই বদলে গেছে। অভিমানে হোক বা বাস্তবতা মেনে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন সেরা ফর্মেই থাকা মারকুটে ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স। মরনে মরকেলও বিদায় বলে দিয়েছেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের মিলিয়ে শক্তিশালী দল নিয়েই ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রেখেছেন ফ্যাফ ডু প্লেসিসরা।
তবে ঘুরে-ফিরে আলোচনায় আসছে সেই ‘চোকার্স’ তকমা। এবার কি চোকার্স অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে প্রোটিয়াদের? নাকি সেই হুদয়ভাঙার গল্পই সঙ্গী হবে!
শক্তিমত্তা
বোলিং- বিশ্বের সেরা ১০ বোলারের দুজন সাউথ আফ্রিকা দলে। ডেল স্টেইন এবং কাগিসো রাবাদা। প্রতিপক্ষ শিবিরে ত্রাস সৃষ্টির জন্য এই দুটি নামই যথেষ্ট। লুনগি এনগিডি ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, এই দুজনের একজন থাকবেন স্টেইন ও রাবাদার সঙ্গে। ফলে ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষাই নেবেন প্রোটিয়ারা।
স্পিন বোলিং অ্যাটাকেও কম যায় না সাউথ আফ্রিকা। সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তৃপ্তি নিয়েই ইংল্যান্ডে পা রেখেছেন ইমরান তাহির। অন্যদিকে তাবরেইজ শামসিও মায়াবী ঘূর্ণিতে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে চলেছেন। তাতে বোলিং আক্রমণের ভারসাম্য নিয়ে নির্ভারই থাকার কথা সাউথ আফ্রিকার।
দুর্বলতা
ব্যাটিং- সাদা চোখে সাউথ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপকে দুর্বল বলা যায় না। অভিজ্ঞ দলনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস এবং স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক দারুণ ফর্মে রয়েছেন। তবে হাশিম আমলা ও ডেভিড মিলারের সাম্প্রতিক অফ-অর্ফ দুর্ভাবনায় ফেলছে প্রোটিয়াদের।
মিডঅ-অর্ডারে জেপি ডুমিনি এবং ডেথ ওভারগুলোতে ক্রিস মরিসের উপস্থিতি আশা দেখাচ্ছে আফ্রিকানদের। দলের অন্যতম দুই সেরা ব্যাটসম্যান আমলা ও মিলার ফর্মে ফিরতে না পারলে সেটি অন্যদের ওপর নিশ্চিতভাবেই চাপ তৈরি করবে।
চোখ থাকবে যার ওপর: কুইন্টন ডি কক
অনেকেই তার মধ্যে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের ছায়া দেখেন। এই তুলনা যে বাড়াবাড়ি নয় ইতোমধ্যেই সেটি প্রমাণও করেছেন সাউথ আফ্রিকার উইকেটক্ষক-ব্যাটসম্যান। পাওয়ার-প্লেতে দুর্দান্ত সব স্ট্রোক খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারঙ্গম স্টাইলিশ এ ব্যাটসম্যান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিধ্বংসী ব্যাটিং উপহার দিয়ে কার্যত আগাম হুমকি দিয়ে রেখেছেন ডি কক। বিশ্বকাপে তাকে ঘিরেই যে সাউথ আফ্রিকা প্রথম শিরোপার স্বপ্ন দেখছে সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
এক্স ফ্যাক্টর: কাগিসো রাবাদা
গতি, নিখুঁত লাইন, ইয়র্কার, ধারাবাহিক ছন্দ- সবমিলিয়ে কাগিসো রাবাদাকে কমপ্লিট প্যাকেজ বললে অত্যুক্তি হবে না। নিখুঁত লাইন ও দুর্দান্ত গতি দিয়ে যেকোনো মুহূর্তেই বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করতে পারেন এ তরুণ গতিদানব। দ্বাদশ বিশ্বকাপে রাবাদাই সাউথ আফ্রিকার এক্স ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন।
১৯৯২ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলা সাউথ আফ্রিকা প্রায় প্রতিবারই দুর্দান্ত শুরুর পর খেই হারিয়ে ফেলে। ২০০৩ আসর ছাড়া বাকি সব আসরেই নকআউট পর্বে খেলেছে প্রোটিয়ারা। তবে এখনো পর্যন্ত ফাইনালের মুখ দেখেনি তারা। ইংল্যান্ড আসরেই সেই আক্ষেপ ঘোচাতে চায় ক্রনিয়ে-ক্যালিসদের উত্তরসূরিরা।
বিশ্বকাপের আগে দারুণ ছন্দেই রয়েছে সাউথ আফ্রিকা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে ডু প্লেসিসের দল। সর্বশেষ ১০ ম্যাচের আটটিতে জয়ের সুখস্মৃতি নিয়ে ইংল্যান্ডে পা রাখে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেভারিটরা। বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকা সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারবে কি-না সেটিই দেখার।
৩০মে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সাউথ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে মোকাবেলা করবে আমলা-ডি ককের দল।
সাউথ আফ্রিকার বিশ্বকাপ দল
ফ্যাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ডেল স্টেইন, আন্দিলে ফেলুকোয়ও, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদা, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কুইন্টন ডি কক, আনরিচ নর্তে, লুনগি এনগিডি, এইডেন মার্করাম, র্যাসি ফন ডার ডুসেন, হাশিম আমলা, তাবরেইজ শামসি।








