টস জিতে ফিল্ডিং নেয়া যেন অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে এবারের বিপিএলে। আগের চারটি ম্যাচে সেটা করে তিনবার জয়ে মাঠ ছেড়েছে দলগুলো। মঙ্গলবার ফিল্ডিং নিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স জয়ী দলের সংখ্যাটা আরেকধাপ এগিয়ে নিলো। চিটাগং ভাইকিংসকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ভিক্টোরিয়ান্সরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের মাঝে শুরুতে ব্যাটে সৌন্দর্য ছড়িয়েও ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি জমাতে পারেনি চিটাগং। জবাবে ১৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই আসরের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কুমিল্লা।
টি-টুয়েন্টিতে ১৪৩ খুব বড় সংগ্রহ নয়! রান তাড়া করতে নেমে সাবলীল ব্যাট চালিয়ে সেটা ভিক্টোরিয়ান্সরা প্রমাণও করেছে! লিটন দাসকে (২৩, বলে বলে ৩ চার ও ১ ছয়) নিয়ে দ্রুতই ৪৩ রান যোগ করে জস বাটলার গতিপথ ঠিক করে দেন।
ইংলিশ তারকা নিজে ফিরেছেন ফিফটি থেকে দুই রান দূরে। ৩ চার আর ২ ছয়ে ৪২ বলে ৪৮ রানের ইনিংসটা থামার সময় একশ ছুঁয়েছে কুমিল্লার সংগ্রহ। বাকি কাজটা সেরেছেন ইমরুল কায়েস ও মারলন স্যামুয়েলস। ইমরুল ৩৩ ও স্যামুয়েলস ৩৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
আগে চিটাগং ভাইকিংসের শুরু আর শেষটা না মেলায় সংগ্রহটাও প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় হয়নি। যেমন বড় হয়নি সৌম্য সরকারের অমিত সম্ভাবনার ইনিংসটাও। অথচ কী দুর্দান্ত শুরুটাই না করেছিল ভাইকিংসরা।
চিটাগংয়ের ‘আইকন’ সৌম্য সরকার ও লুক রঞ্চি মিলে ৬ ওভারেই যোগ করেন ৬৩। শুরুর ঝড়টা রঞ্চির ব্যাটেই। ৪ চার ও ৩ ছয়ে ২১ বলে ৪০ তুলে কাপালির দারুণ ক্যাচে সাজঘরে ফিরেছেন নিউজিল্যান্ড তারকা।
সৌম্যর সঙ্গী তখন দিলশান মুনাবিরা। তাতে ১২ ওভারেই একশ পেরোয় ভাইকিংস। মুনাবিরা ২১ করে ফিরলেও সৌম্যকে ঘিরে আশার আলো জমাট বাঁধছিল। লম্বা রানখরার পর সাউথ আফ্রিকা সফরের টি-টুয়েন্টি সিরিজে দারুণ ব্যাট চালিয়েছেন টাইগার উদ্বোধনী। সেটা টেনে আনলেন বিপিএলের মঞ্চেও। তবে ওই একই রোগ, টেনে নিতে পারলেন না চূড়ায়! ৩৮ রানেই সাজঘরে সাউফউদ্দিনের বলে উদ্ভাবনী শট খেলতে যেয়ে সম্ভাবনার অপমৃত্যু ৩ চার ও এক ছয়ের ৩৩ বলের ইনিংসের।
তালগোল পেরিয়ে পরে আর খুব বেশি এগোয়নি ভাইকিংসের ইনিংসও। সেখানে ম্যাচে ফেরার সুযোগটা ভালোই কাজে লাগিয়েছে ভিক্টোরিয়ান্সের বোলাররা। সবচেয়ে সফল অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় ৩ উইকেট টাইগারদের জাতীয় দলে এসে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানো এই পেস তারকার। ম্যাচসেরাও হয়েছেন।








