বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচিত নয় বলে সংসদের বিরোধী দলকে গুরুত্ব দেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে শি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা বা ইশারা দিয়ে গেছেন’। গত শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন বার্তা’ শীর্ষক ওই আলোচনার আয়োজন করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), সেখানে খন্দকার মোশাররফ এই কথা বলেন।
ড. মোশাররফ বলেন, ‘চীন জনগণের বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে। আপনারা দেখেছেন যে রাষ্ট্রপতিরা একটা দেশে আসলে সরকারি ও বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলেন। আর বিরোধী দলকে স্বীকৃতি দেয় সেই বিরোধী দল যারা পার্লামেন্টে আছে। এটা পরিষ্কারভাবে এ দেশের জনগণকে চীনের প্রেসিডেন্ট এই ম্যাসেজ (বার্তা) দিয়ে গেলেন যে এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, এই পার্লামেন্টে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই। সে জন্য বিরোধী দলকে চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতি কোনো গুরুত্ব দিলেন না। দিলেন কাকে, দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে। অতত্রব এটাও আমরা মনে করি যে, চীনের মহামান্য প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং একটি বার্তা বা ইশারা এই দেশের জনগণের জন্য দিয়ে গেছেন।’
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একজন সাবেক শিক্ষক। তিনি অনেক বিষয় ভালো বোঝেন, গভীরে যেতে পারেন। তাই উনি ভালভাবে বুঝেছেন চীনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনের কথা। চীনের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর মাধ্যমে এই ম্যাসেজ (বার্তা) দিয়ে গেলেন যে এই পার্লামেন্ট (দশম) যেহেতু নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়। ‘আসলে এই সরকার বৈধ নয়’ সেটাও চীনের প্রেসিডেন্ট হয়তো ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বলে গেছেন কানে কানে, খুব গোপনে। এটা পড়ে আমার এক বন্ধুর মাথা ঘুরান্টি দিয়েছে। তিনি ভেবে পাচ্ছেন না, ড. খন্দকার মোশাররফ ঘোষিত এই অবৈধ সরকারের সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট যে চুক্তি করে গেলেনে তার কী হবে! সেটা কি বৈধ হবে না অবৈধ হবে সেটা জানার বড় আগ্রহ জাগে তার মনে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবরা আমাদের শিখিয়েছেন যে, আইনের চোখে অবৈধ ব্যক্তির সকল কর্মকাণ্ড অবৈধ। বাংলাদেশের চুক্তি আইনেও বলা আছে যে, আইনের চোখে অবৈধ ব্যক্তির সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি অবৈধ। তাহলে ড. খন্দকার মোশাররফ ঘোষিত এই অবৈধ সরকার যা করবে সব অবৈধ। তখন উনাদের পুরাতন ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশের বিনিয়োগের কী দশা হবে!বড়ই দুশ্চিন্তার কথা।
এরশাদ সাহেবের দলে কোন কূটনীতিক নেই সেটা গত কয়েক মাসের কর্মকাণ্ডে খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে। তা না হলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবরা এমন কথা বলার সুযোগ পেতেন না। আমার তো মনে হয় একটা ভালো প্রেস রিলিজ লেখার লোকেরও বড় অভাব এখন এরশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টিতে। তা না হলে এসব কথার একটা প্রতিবাদ তো মিডিয়ায় আসতে পারতো, জাতীয় পার্টির পক্ষ থকে। জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অন্তত বলা যেতে পারতো যে তারা অবৈধ না, তারা বিরোধী দল মানে সরকারের অংশ। তারা অবৈধ হলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবরা কেন এই অবৈধ সরকারের কাছে তত্ত্বাবধায়ক, সরকারের, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবী করছে? অবৈধ সরকারের মেনে নেওয়া দাবীও অবৈধ হবে। তাই অবৈধ কাজ নিশ্চয় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবরা করবেন না। বরং উনারা আগামী ঈদের পরে দুর্বার আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটিয়ে জনতার সরকার প্রতিষ্ঠা করবেন।
আমরা আশা করি আগামী ঈদের পরে (যদিও বলা হয় আগামী ঈদ, কিন্তু সেটা কোন আগামী ঈদ তা কেউ জানেন না) তাঁর ভাষায় ‘দেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী খালেদা জিয়াকে’ নিয়ে দুর্বার আন্দোলন হবে বর্তমান, ‘স্বৈরাচারী অবৈধ সরকার’ পতনের। সেই সাথে পতিত রাষ্ট্রপতির দল এরাশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টিরও পতন হবে বিরোধীদল হিসেবে। কিংবা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ২০ দলীয় জোটের যে কর্মসূচী এখনো চলমান আছে, যা থেকে অগ্নিসন্ত্রাসের জন্ম নিয়েছিল, সেটা চাঙ্গা করলেও কিন্তু কাজ হয়ে যায়। সরকারে যেতে না পারলেও বিরোধী দলের আসনটা বিএনপি’র দখলে হয়ে যেতে পারে। কিন্তু বাংলার দেশপ্রেমিক জনতা ইদানিং মনে হয় একটু ঝিমুনীতে আছেন। তাঁরা আগের মত আর মাতে না, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবদের এই সব গুরুত্বপূর্ণ(!) কথায়। তাই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাহেবরা নানাভাবে সপ্ন দেখেন, মনের তুষ্টির জন্য, শান্তির জন্য। এই সব দেখে পাগল এক কবির লেখা দুটি লাইন মনে পড়েঃ
চরদখলি স্বপ্ন দ্যাখে নদী ম’রে হইছে ডাঙ্গা,
চোরের পুলা স্বপ্ন দ্যাখে সবার ঘরের তালা ভাঙ্গা।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







