গোঁফ ছাড়া দাড়ি রাখায় নিষেধাজ্ঞার পর এবার চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের পশ্চিম অঞ্চলের মুসলিম অধিবাসী উইঘুরদের লম্বা দাড়ি এবং বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে ইসলামিক চরমপন্থার কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এক নির্দেশনায় বলা হয়, পুরুষরা অযৌক্তিকভাবে বড় দাড়ি রাখতে পারবেন না এবং নারীরা পাবলিক স্থানে বোরখা পড়তে পারবেন না। সবাইকে রাষ্ট্রের টেলিভিশন দেখতে হবে।
জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিম এই অধিবাসীরা উইঘুর নামে পরিচিত। যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিভিন্নরকম বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়ে আসছে। সম্প্রতি সময়ে এই অঞ্চলে কয়েকটি রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ হয়েছে। এসব সংঘর্ষের জন্য চীনের কেন্দ্রীয় সরকার স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদেরকে দায়ী করেছে।
কিন্তু দেশটির ডানপন্থি গোষ্ঠী দাবি করেছে সরকারের নিপীড়নমূলক নীতির কারণে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। নতুন এই নীতির কারণে উইঘুররা চরমপন্থার দিকে ঝুঁকতে পারে বলেও দাবি করেছেন তারা।
সম্প্রতি প্রদেশটিতে একই ধরনের বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যেমন- সরকারি স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি নিষিদ্ধ, পরিবার পরিকল্পনা নীতির আওতা বহির্ভূত, ইচ্ছাকৃতভাবে আইনী পত্রাদি নষ্ট করা, শুধু ধর্মীয় প্রথা অনুসারে বিয়ে অনুষ্ঠান করা ইত্যাদি।

এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী পুরুষদের বড় দাড়ি দেখলে, কিংবা বোরখা পরা কাউকে এয়ারপোর্ট, রাস্তাঘাটের মতো পাবলিক স্থানে দেখলে পুলিশের জেরার মুখে পড়বেন।
জিনজিয়াং প্রদেশের আইনপ্রণেতারা এই আইন পাশ করেছে বলে প্রদেশটির নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে। এর আগে চীনা সরকার উইঘুরদের পাসপোর্ট দিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো।








