ভারতে বেশির জায়গায় গরু জবাই নিষিদ্ধ হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটে।
সেখানে চামড়া সংকটে ক্রিকেট বলের দাম বেড়েছে ১০০ শতাংশ। মানে দ্বিগুণ হয়েছে বলের
দাম। ফলে চরম চাপে পড়েছে বল প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো।
মিরাটভিক্তিক একটি বল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেছেন, ‘এখানে পাগলামীর কারণে যুক্তরাজ্য থেকে চামড়া আমদানি করতে হচ্ছে। ডিউটি ফি ও অন্যান্য ট্যাক্সের কারণে তা খুবই ব্যয়বহুল।’
ওই পরিচালক আরো বলেন, ‘এর ভুক্তভোগী হচ্ছে আসলে ক্রেতারা। এক বছর আগেও যেখানে একটি বল ৪০০ রুপিতে বিক্রি হতো, সেই বল এখন ৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে।’
বিডি মহাজন এন্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক রাকেশ মহাজন হিন্দুস্থান টাইমসকে বলেন, ‘অল্প কয়েকদিন আগেও একটি গরুর চামড়া ৬০০-৭০০ রুপিতে বিক্রি হতো, সেই চামড়ার দাম এখন ২৫০০ রুপি ছুঁয়েছে। আর এর কারণে বলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে।’
গরুর চামড়া সংকটে কোনো কোনো কোম্পানি মহিষের চামড়া ব্যবহার করছে। কিন্তু বল প্রস্তুতকারকরা বলেন, পাতলা চামড়ার জায়গায় পুরু চামড়া ভাল বিকল্প নয়।
রাকেশ মহাজন বলেন, ‘প্রসেজিং করতে মহিষের চামড়া জুতসই না। রঙ ও পানি শোষণের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। তাছাড়া সময়ও বেশি লাগে। একজন লোক গরুর চামড়া দিয়ে যে সময়ে ১০টি বল প্রস্তুত করতে পারে, একই সময়ে মহিষের চামড়া দিয়ে পারে ৬টি।’
দেশটির উত্তর প্রদেশে গরু জবাই পুরোপুরি নিষিদ্ধ। সেখানে কেউ গরু জবাই করলে জেলসহ ১০ হাজার রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়াও হরিয়ানা, জম্মু এন্ড কাশ্মির, ঝাড়খন্ড ও রাজস্থানে গরু জবাই করলে ১০ বছর পর্যন্ত জেলের বিধান রয়েছে।
জেলের বিধান রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, আসাম, বিহার, চন্ডিগড়, ছত্রিশগড়, দিল্লি, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মিজোরাম, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব এবং তামিলনাড়ুতে।
তবে এখনো পর্যন্ত গরু জবাইয়ের উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হয়নি, কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমে।









