আন্তর্জাতিক

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় বার্সেলোনা হামলার বর্বরতা

একজন ব্যক্তি সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন, পেছনে লাল আসন।. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

একজন ব্যক্তি সাক্ষাৎকারে কথা বলছেন, পেছনে লাল আসন ও আধুনিক আসবাবপত্র দেখা যাচ্ছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

স্পেনের বার্সেলোনার মানুষের ভিড়ের মধ্যে গাড়ি দিয়ে ‘সন্ত্রাসী হামলা’র ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বার্মিংহামের অধিবাসী হ্যারী আথয়াল। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে সেই হামলার বর্বতা।

ব্রিটিশ এই নাগরিক সে দিন তার জীবন বাজি রেখে কিভাবে তিনি সবাইকে সহযোগিতা করেছে তার বর্ণনা করেছেন।

ব্রিটেনের আইটিভির ‘গুড মর্নিংব্রিটেন’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি ঔ হামলার বর্ণনা করেন।

হ্যারী আথয়াল বলেন, প্রথমে একটি রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করে বেলকোনী থেকে এই হত্যাকাণ্ড দেখতে পায়। হত্যাকাণ্ড দেখার পর অামি অাহতদের সাহায্য করা জন্য সোজা রাস্তা নেমে আসি। চারিদিকে তখন তীব্র চিৎকার শুনে আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না। আমার সন্তানের বয়সি এক শিশুকে রাস্তায় পরে থাকতে দেখে  দৌড়ে সেখানে যাই। আমি শুধু এইটুকু জানতাম আমাকে কিছু একটা করতে হবে। তাই সন্ত্রাসী হামলা জানা সত্বেও আমি রাস্তায় নেমে পড়ি।

তিনি আরো বলেন, রাস্তায় আহত শিশুটি আমাকে আামার ছেলের কথা মনে করিয়ে দেয়। শিশুটি মারাত্মক ভাবে আহত ছিল। আমি তার পাল্স পরীক্ষা করলাম। কিন্তু কোন সাড়া নেই। আমি পুলিশ আসা পর্যন্ত ওর পাশেই বসে ছিলাম।

পুলিশ বার বার আমাকে চিৎকার করে বলছিলো রাস্তা থেকে সড়ে যেতে। কারণ আবার আক্রমণের জন্য অন্য আরেকটি ভ্যান আসতে পারে। কিন্তু আমি শিশুটিকে ছেড়ে যেতে পারিনি। ওর বয়সি আমার একটা ছেলে অাছে। যা আমাকে নাড়া দিয়েছে।

সাধারণ মানুষকে  সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করার আাহ্বান জানিয়ে হ্যারী বলেন, সন্ত্রাসীরা হামলার কৌশল পালটে আক্রমণ করছে। সতরাং আমার মনে হয় সময় এসেছে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ গড়ে তুলবার।

তিনি বলেন, আমরা এখন অন্যরকম সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াই করছি, তারা গাড়ি নিয়ে আক্রমণ করে আমাদের সন্তানদের হত্যা করছে। তোমাদের এখনি কিছু একটা করতে হবে।

”এটা শুধু তোমাদের ‍নিজস্ব নিরাপত্তা জন্য নয়। সাবার জন্য সাধারণ মানুষ এখন কিছু একটা করতে পারে। আমাদের পরিবর্তন আনতে হবে। সাধারণ জনগণকে জাগতে হবে। আমরা এই অন্ধকার নিয়ে চলতে পারিনা। আমাদের প্রিয়জনদের নিরাপদে রাখতে হবে।”

১৭ আগস্ট বিকালে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ট্রাক হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় অর্ধশতাধিক। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই বার্সেলোনার পাশের শহর ক্যামব্রিলসেও ভ্যান চালিয়ে হামলার চেষ্টাকরা হয়। তবে সেখানকার পুলিশ এই হামলা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়। এসময় পুলিশের গুলিতে ৫ হামলাকারী নিহত হয়।

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…