দেশের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে প্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত ৭টি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ফ্রেন্ডশিপ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এ স্কুলগুলো পরিচালনা করছে।
গতকাল রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দা তাহমিনা আক্তার। উপস্থিত ছিলেন ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান এবং পরিচালক আয়েশা তাসিন খান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের জেএসসি পরীক্ষায় এই ৭টি স্কুল থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৯৮.২ শতাংশই এ এবং এ মাইনাস পেয়েছে।
ফ্রেন্ডশিপের নির্বাহী পরিচালক রুনা খান বলেন: এসব চর এতোই দুর্গম যে সেখানে যেতেই ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে এখানকার স্কুলের জন্য শিক্ষক পাওয়াও কঠিন ব্যাপার। আমরা সেখানে শুরুতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। পরবর্তীতে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করি এবং শিক্ষকের সমস্যা দূর করার জন্য প্রযুক্তির সহায়তা নিই।
ফ্রেন্ডশিপের প্রযুক্তি ভিত্তিক স্কুলের প্রশংসা করে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন: তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষাদানের পদ্ধতিকে একটি নতুন মাত্রা দিয়েছে ফ্রেন্ডশিপ। আমি আশা করব এই মডেল অনুসরণ করে অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের স্কুল গড়ে উঠবে।
আইসিটি ডিভিশন থেকে স্কুলগুলোর জন্য বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতারও ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
বিভিন্ন কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় পাস করা অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। এ বাস্তবতায় ২০১৪ সালে ফ্রেন্ডশিপ একটি শিক্ষা পদ্ধতি ডিজাইন করে যা মূলত আইসিটি ভিত্তিক।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১৫ সালে পাইলট প্রকল্প হিসাবে আইসিটি ভিত্তিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় চালু করে ফ্রেন্ডশিপ। সৌর প্যানেল সমর্থিত এই স্কুলগুলোর প্রতিটি ক্লাসরুমে থাকে একটি কম্পিউটার এবং দুটি মনিটর স্ক্রিন। এ ছাড়াও থাকে রেকর্ডকৃত ক্লাস। রাজধানীতে সেরা স্কুল থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের সহায়তায় ঢাকায় ফ্রেন্ডশিপের রেকর্ডিং স্টডিওতে ক্লাসগুলো রেকর্ড করা হয়।
বর্তমানে ফ্রেন্ডশিপের ৭৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪,৬৮৬ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি আছে ২৪৪ জন শিক্ষার্থী। এই বছর, পিইসি-তে উন্নীতের সংখ্যা গত বছরের ৩৭৫ জন থেকে বেড়ে ৫৪৩ জন হয়েছে। যার মধ্যে গাইবান্ধা থেকে ২৬০, কুড়িগ্রাম থেকে ১২৬ এবং চিলমারী থেকে ১৫৭ জন।







