পাহাড়ি ঢল এবং সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আর সাগরের জোয়ারের কারণে অবনতি হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির। কাপ্তাই বাঁধের সকল গেইট খুলে দেয়ায় রাঙ্গুনীয়া ও হাটহাজারীসহ ৪টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।
এর মধ্যে আনোয়ারা উপজেলার ৭টি, বাঁশখালীর ৮টি, সাতকানিয়ার ১০টি এবং চন্দনাইশের ৭টি ইউনিয়ন ৫ থেকে ৬ ফুট পানির নীচে রয়েছে। পানিবন্দি হয়েছে ৩ লাখেরও বেশি মানুষ। বন্যা কবলিত ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ। এই এলাকার বন্যা কবলিত । আনোয়ারা উপজেলার চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধরী বলেন, আনোয়ারার বেড়িবাধেঁর ৫০টি পয়েন্ট ভেঙ্গে গেছে। এই ভাঙ্গনের ফলে এই এলাকার বেশীভাগে এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে।
বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্ষনের কারণে পূর্ব এলাকা একরকম ডুবে গেছে এর ফলে রাস্তার উপরে প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট পানি হয়েছে।
বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, শুধু ত্রাণ দিয়ে কোনো কাজ হবে না, এখানে যা প্রয়োজন তা হল বেড়ি বাঁধ।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষ। তবে অধিকাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে থাকায় প্লাবিত এলাকার অনেকেই এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে রয়ে গেছে। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন বলেন, পাহাড় ভেঙ্গে কোথায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চিম্বুক, নীলগিরিসহ উপজেলার প্রধান সড়কের বেশকিছু স্থানে আড়াইশ থেকে ৩’শ মিটার রাস্তা ধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
টুআইসি ১৯ ইসিবি, সেনা প্রকৌশল শাখার মেজর সাদেক মাহমুদ বলেন, লোকাল রোর্ডস এন্ড হাইওয়ের সহযোগিতায় যত দ্রুত সম্ভব পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি।
রোববার বৃষ্টি না হওয়ায় কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে উপকূলের অনেক স্থানে চলছে জোয়ার ভাটা। পানি কমতে শুরু করলেও এখনো পানিবন্দি রয়েছে ২ লাখ মানুষ।
বন্যা কবলিত এলাকায় আরো পর্যাপ্ত ত্রাণের প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আজাদ বলেন, পাহাড়ি ঢল এবং সাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ৪টি উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষ গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বন্দী রয়েছে। ওদিকে বান্দরবান ও কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।






