পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত অজ্ঞাতদের মধ্য থেকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অজ্ঞাত ১১টি মরদেহ শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শনাক্ত ১১ জনের মৃতদেহের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ২ জন নারী।
শনাক্ত নারী দুজন হলেন- নাসরিন জাহান ও ফাতেমা জহুরা। তবে ৯ জন পুরুষের নাম পরিচয় এখনও জানা যায় নি।
বুধবার সকালে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএসপি) রুমানা আক্তার প্রথমে বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন। পরে দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান তদন্তকারী সংস্থাটির এডিশনাল ডিআইজি রেজাউল হায়দার।
তিনি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি আগুনের ঘটনায় মোট ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি। সর্বশেষ ৫ মার্চ পর্যন্ত ৪৮ জন দাবিদার আত্মীয়দের কাছ থেকে মোট ৪৮ টি রেফারেন্স ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রথম ধাপে সেগুলোর সঙ্গে ৪৮ জন দাবিদারের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানো হলে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ২৩ জনের সাথে ১১টি মরদেহের নমুনা মিলে যায়। বাকি চারজনের পরিচয় নির্ণয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় ধাপে পাঁচটি অজ্ঞাত মৃতদেহের হাড় থেকে ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে একটি বিশেষজ্ঞ দল ডিএনএ নমুনা (রক্ত, টিস্যু, হার ও বাক্কাল সোয়াব) সংগ্রহ করে কাজ শুরু করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ। এর জন্য গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দলের সাথে যৌথভাবে ঢামেক মর্গ থেকে মোট ৬৭টি মৃতদেহ থেকে ২৫৬টি ক্রাইম সিন ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি বিচ্ছিন্ন হাতকে পৃথক আলামত হিসেবে গণ্য করে সেটি থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলে মোট সংগৃহীত ক্রাইম সিন ডিএনএ নমুনা সংখ্যা ২৫৭তে দাঁড়ায়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। ওই কর্মকর্তা আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।’
শনাক্ত ৯ জন পুরুষের নাম-পরিচয় সম্পর্কে তিনি বলেন, বাকিদের নাম-পরিচয়ও তদন্ত কর্মকর্তা যাচাই বাছাই করে বলতে পারবেন।
শনাক্তকৃত দুই নারী নিখোঁজ দুই বান্ধবী কিনা? জানতে চাইলে রেজাউল হায়দার বলেন: ‘আমরা সেটি বলতে পারব না। তবে দাবিদার পরিবার যে নাম দিয়েছে সেই নাম আমরা প্রকাশ করেছি।’
চকবাজার ট্র্যাজেডিতে নিহত অজ্ঞাত ১৯টি মরদেহের মধ্যে ১৪টির পরিচয় শনাক্তে ১৫ দিন এবং বাকি ৫টির জন্য ৩ সপ্তাহের বেশি সময় লাগতে পারে বলে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিল সিআইডি।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের শেষ মাথায় মসজিদের পাশে ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ঘটনার দিনই আগুনে পুড়ে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরও চারজন। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৭১ জন।
এলাকাবাসী জানায়, ওই ভবনের কারখানা থেকে আগুন ছড়িয়েছে। কেউ বলছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ আবার কেউ বলছে বিকট শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়ায়। ওয়াহিদ ম্যানশনের নিচতলায় প্লাস্টিকের গোডাউন ছিল। ওপরে ছিল পারফিউমের গোডাউন। পুড়েছে অন্তত পাঁচটি বাড়ি।
প্রায় ১১ ঘণ্টা পর চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর আগুন কিছু নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও পরে আবার আগুন লাগে। ড্যাম্পিং শুরু করার পর ভবনের পেছন দিকে সেই আগুনের শুরু হয়। তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ভোর ছয়টা বেজে যায়।







