আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি অগ্রণী লম্বা সময় ধরেই। ঘরোয়াতেও কম যাচ্ছেন না মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়ে নিজেকে তুলে নিলেন আরেকধাপ উচ্চতায়। বিষয়টা ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন হাবিবুল বাশার সুমন। সাবেক অধিনায়ক ও জাতীয় দলের এ নির্বাচক মনে করেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে যে পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন মাশরাফী, সেটি তরুণদের জন্য উদাহরণ।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি। নতুন রেকর্ড গড়ে সেটাই টপকে গেলেন মাশরাফী। আবাহনীর হয়ে চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ১৫ ম্যাচে ৩৮ উইকেট ম্যাশের। রনি গত মৌসুমে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে আগের কীর্তিটি গড়েছিলেন।
সোমবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে মাশরাফী ছাড়িয়ে যান আবু হায়দারকে। মাশরাফী যখন ২২ গজে ঝড় তুলে যাচ্ছেন, তখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হাবিবুল বাশার তুলে ধরছেন ইতিবাচক দিকটাই।
‘মাশরাফী খুব ভাল করছে। নিঃসন্দেহে যারা তরুণ খেলোয়াড়, তাদের জন্য ভাল উদাহরণ রেখে যাচ্ছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও কতটা উৎসাহ নিয়ে বল করা যায় সেটার দৃষ্টান্ত এটি। ফ্ল্যাট উইকেটে কীভাবে ভাল বোলিং করা যায়, সে উদাহরণ তৈরি করেছে মাশরাফী। আশা করি ওর কাছ থেকে শিখে নিতে পারবে তরুণরা।’

‘মাশরাফী সবসময়ই ভাল বোলার। এবার লিগে সব ম্যাচ খেলেছে। মজার ব্যাপার হল, আগে যতখানি ইনজুরিতে পড়ত, বয়স বাড়ার সাথে সাথে তা কমে আসছে। আশা করি এরকমই থাকবে। বোলারদের ওর কাছ থেকে শিখতে হবে। স্কিলের দিক থেকে মাশরাফী অনেক এগিয়ে। তাকে দেখে দেখে তরুণদেরও এগিয়ে আসতে হবে।’ যোগ করেন হাবিবুল।
ঢাকা লিগের এক আসরে এর আগে মাশরাফীর সেরা সাফল্য ছিল ২৯ উইকেট। ২০০৯-১০ মৌসুমে আবাহনীর হয়েই কীর্তিটি গড়েছিলেন। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক সেই সাফল্যকে ছাড়িয়ে গেলেন আকাশী-নীল জার্সিতেই। ২০১৩-১৪ মৌসুমে ঢাকা লিগ লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর এটিই তার সেরা বোলিং। ক্যারিয়ারের শেষদিকে এসেও মাশরাফী একের পর এক কীর্তি গড়ে চলছেন। যা থেকে অনুপ্রেরণা নিতেই পারেন তরুণরা।








