গ্রিসে রাজধানী অ্যাথেন্সের কাছে ভয়াবহ দাবানলে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ বলে জানিয়েছে রেডক্রস। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ দাবানলকে গত ১০ বছরেরও বেশি সময়ের সবচেয়ে বড় দাবানল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে।
রেডক্রস জানিয়েছে, বিপর্যয়ের কেন্দ্র সমুদ্র তীরবর্তী গ্রাম মাটি। সেখানে শুধু একটি বাগানবাড়ির উঠান থেকেই মঙ্গলবার ২৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৪।
জরুরি উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন স্থানে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার ও নৌকার সাহায্যে একটি সমুদ্র সৈকতে থাকা বহু লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া দাবানলটি বাতাসের তীব্র গতির কারণে রাজধানীর পাশের বনে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে গ্রিস।
দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় মানুষজনকে ঘর-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদে যেতে বলা হয়েছে। পুড়ে গেছে কয়েকশ ঘর বাড়ি। অ্যাথেন্স ও তার আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
মাটিতে বেশিরভাগ মানুষ দাবানলে আটকা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। গ্রামটি অ্যাথেন্সের ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। সেখানে বহু মানুষ ঘরের ভেতর বা গাড়িতে থাকা অবস্থায় আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
গ্রিক সরকারের মুখপাত্র দিমিত্রিস জানাকোপৌলস জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হিসেবে ১০৪ জনের বেশি দাবানলে দগ্ধ ও আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন কয়েকশ’ দমকলকর্মী এবং সেনাবাহিনী। চলমান পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জটিল’ বলে মন্তব্য করেছে দমকল বাহিনী।
দাবানলে ভেঙ্গে পড়েছে সড়ক মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো দাবানল নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি,’ বলেন তিনি।
সিপ্রাস বসনিয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় সফর নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করে দেশে ছুটে এসেছেন পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে সহায়তা করার জন্য।








