গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘পল্লী জনপদ’ নামে একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সরকার। কৃষি জমির অপচয়রোধে গ্রামে সমবায় ভিত্তিক বহুতল ভবন বিশিষ্ট পল্লী জনপদে থাকবে আধুনিক নাগরিক সুযোগ সুবিধা। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৭টি বিভাগে ৭টি প্রকল্প হবে, পরে তা করা হবে সারাদেশেই।
গ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করায় দেশে কৃষি জমির পরিমাণ দিনের পর দিন কমছে। বিষয়টিকে নিরুৎসাহিত করতে এবং গ্রামে উন্নত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই পল্লী জনপদ প্রকল্প।
এর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় ২০১৪ এর জুলাইয়ে, শেষ হওয়ার সময় ২০১৭-এর জুন মাস। একটি প্রকল্পে প্রায় পৌনে তিনশ পরিবার বসবাসের জন্য থাকবে চার তলা আধুনিক ভবন। যাতে থাকবে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের নানা আয়োজন।
৭টি বিভাগে এরই মধ্যে জমি নেয়া হয়েছে। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে রংপুরসহ কয়েকটি জায়গায়। গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের মানুষ যাতে ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা থাকবে পল্লী জনপদে। 
পল্লী জনপদের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হোসেন খান বলেন, ১৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ‘এ’ টাইপের বিল্ডিং কিনলে ২ বছরের মধ্যে ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। তাহলে সে চাবি পাবে, ফ্ল্যাট পেয়ে যাবে। তাকে আমরা ট্রেনিং দিবো, ক্রেডিটের ব্যবস্থা করবো। যাতে সে অতিরিক্ত ইনকাম করতে পারে। সেই অতিরিক্ত ইনকাম থেকে সে ১৫ বছরে অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করলে তাকে আমরা মালিকানা হস্তান্তর করবো।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)। বগুড়া জেলার আরডিএ মহাপরিচালক প্রকৌশলী এম এ মতিন বলেন, এর ফলে ৪৩ একর জমি বাচবে। তিনশো পরিবারের চারশো গরু রাখার ফার্ম থাকবে। ১০ হাজার মুরগি রাখার জায়গা থাকবে।
পল্লী জনপদ নির্মাণ কাজে এগিয়ে রংপুর। জেলার পান্ডারদীঘিতে পুরোদমে চলছে নির্মাণ কাজ। গ্রামের আগ্রহী ফ্ল্যাট ক্রেতাদেরও আনাগোনা সেখানে।
পল্লী জনপদের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, যেভাবে আমাদের কাজ চলছে তাতে আমরা আশা করছি যে ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে আমরা এই কাজ শেষ করতে পারবো।
পল্লী জনপদে সমবায়ভিত্তিক উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডের মুনাফা ভাগ করে দেয়া হবে সদস্যদের মধ্যে।







