সেনাবাহিনী জিম্বাবুয়ের কর্তৃত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে জনসম্মুখে দেখা গেছে। শুক্রবার রাজধানী হারারেতে স্নাতক শ্রেণির একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুগাবে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি গৃহবন্দী ছিলেন।
বিবিসি জানায়: একজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে বলেছেন, মুগাবে ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং তখন তিনি বেশ উৎফুল্ল ছিলেন।
সেনাবহিনী জানিয়েছে মুগাবের সঙ্গে তারা কথা বলেছে এবং শীঘ্রই আলোচনার ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে সেনা শাসনের তৃতীয় দিনে এসেও ক্ষমতা ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে। সেনাবাহিনীর চাপে পদত্যাগ করতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি।
মুগাবে গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যানগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন। ধারণা করা হচ্ছিল মুগাবে তার স্ত্রীকে দলের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট করার পরিকল্পনা করছিলেন। এরপরই দেশের কর্তৃত্ব নেয় সেনাবাহিনী।
এরপর জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা।
সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে জানানো হয়, জ্যাকব জুমার সঙ্গে জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের টেলিফোনে কথা হয়েছে। কথা বলার সময় আটক হওয়ার কথা জানালেও নিরাপদে আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে শুরু থেকেই তাকে গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল দেশটির সেনাবহিনী। রাজধানীর রাজপথ দখল এবং মুগাবেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনাকে ‘প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও তার পরিবারকে নিরাপদ রাখা এবং প্রেসিডেন্টের আশপাশে থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোদের ধরার অভিযান’ বলে দাবি করে আসছে সেনাবহিনী।
অন্যদিকে মুগাবের পদত্যাগ চেয়ে বক্তব্য দিলেও সেনা শাসন দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা মরগান ভেঞ্জেরাই। বিরোধী দলের এ নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থে মুগাবেকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। জিম্বাবুয়েতে বর্তমানে একটি বৈধ প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।







