ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে তিনজন শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর ছাত্রলীগ থানায় সোপর্দ করেছিল, তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন, তারিকুল, জোবায়দুল হক রনি ও ওমর ফারুক। এই তিন ছাত্রের মুক্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টরের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বামপন্থী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা৷
তাদের মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে প্রক্টরের কার্যালয়ের সামনে প্রায় একশত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে৷ বিক্ষোভের এক পর্যায়ে প্রোক্টর অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন৷ তাদের থেকে দশ মিনিট সময় নেন৷ এরপর আটককৃতদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে তিনি শাহবাগ থানায় কথা বলে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে দিতে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেয়৷ সেখানে আটককৃতদের মুক্তি দিলে শিক্ষার্থীরা তাদের ফুলের মালা পরিয়ে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের দিকে চলে আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকটর অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রব্বানী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,’ওই তিন শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে থানায় নেওয়া হয়েছিল। এখন তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
সোমবার রাতে ফজলুল হক মুসলিম হলে চার শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী জানান, হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গুজব প্রচারের অভিযোগ তুলে সোমবার দিবাগত রাতভর হল গেস্টরুমে তাদেরকে মারধর করে। পরে প্রোক্টরিয়াল বডির মাধ্যমে তিন শিক্ষার্থীকে থানায় সোপর্দ করা হয়।
মারধরের শিকার চার শিক্ষার্থী হলো পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের জোবায়দুল হক রনি, গণিত বিভাগের তারিকুল, প্রাণ রসায়ন বিভাগের মোজাম্মেল ও ওমর ফারুক। এর মধ্যে তারিকুল, জোবায়দুল হক রনি ও ওমর ফারুককে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান আটককৃতদের মুক্তির দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন,’আমি দুঃখিত, আটককৃতদের মুক্তি দেয়া হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলুল হক মুসলিম হলের ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরিয়ার সিদ্দিক সিসিম বলেন,’আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না৷ তাদেরকে পুলিশ কেন ছেড়ে দিয়েছে, তা পুলিশই ভালো বলতে পারবে৷ কিন্তু আমরা তাদের ফেসবুক চ্যাটগ্রুপে গুজব ছড়ানোর প্রমাণ পেয়েছি।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভি করেননি ৷








