রাজধানীতে আজ সম্মিলিত জাতীয় জোটের একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনেকগুলো দলের এ জোটের প্রধান দল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু ইসলামী দলও আছে।
এ দেশের রাজনীতিতে এরশাদ এবং তার জাতীয় পার্টি শুরু থেকেই নানা নাটকীয়তার জন্ম দিয়ে এসেছে। শনিবারের মহাসমাবেশটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। তার নজীর আমরা দেখেছি মহাসমাবেশের শুরুর দিকেই জাতীয় পার্টির দু’ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনায়।
এর পরের নাটক ছিল মূল মঞ্চের পাশে সাংস্কৃতিক আয়োজনের মঞ্চে। মঞ্চ যেহেতু তাই নাটক তো হতেই হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চে শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করছিলেন। একজন নারী শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশনের সময় এরশাদের জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিশের কর্মীবাহিনী সেখানে হামলা করে গান-বাজনা বন্ধ করে দেয়।
বিচ্ছিন্ন এসব নাটকের পাশাপাশি নেতাদের বক্তৃতাও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। তবে, এরশাদ যে বক্তৃতা করেছেন তাতে কিছুটা সংশয় ছড়িয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
জাতীয় পার্টি ও সম্মিলিত জাতীয় জোটের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ওই মহাসমাবেশে বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে এখনও অনেক সংশয় আছে। নির্বাচন হবে কি হবে না জানি না। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলো স্বচ্ছ কিনা মনে হয় না আমার।
এরশাদের দল গত প্রায় ১০ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের অংশীদার। বর্তমান সংসদে বিরোধীদলে থেকেও তারা সরকারের মধ্যে আছে। এরশাদ নিজেও মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। বিশেষ দূত হিসেবে তিনি কী দায়িত্ব পালন করেন সেটা আমাদের জানা নেই। তবে, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত যখন নির্বাচন হবে কিনা সেটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন নয়, সাধারণ মানুষও সংশয়-সন্দেহে পড়েন।
আমরা জানি না যে, এরশাদ ওই বক্তব্য শুধু কথার কথা হিসেবে বলেছেন? নাকি সত্যিই আশঙ্কার কোন দিক দেখছেন? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষেরা মনে করি, গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই, সেজন্য সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচনেরও কোন বিকল্প নেই।
আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেমন সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। সেক্ষেত্রে বিরোধীদলে থেকেও সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টিরও দায়িত্ব রয়েছে। তাদের সেই ভূমিকা পালনের পরিবর্তে দলটির প্রধান নেতা যিনি আবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তার মুখে সংশয়-সন্দেহ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়, নানা ধরণের গুজবকেও উস্কে দেয়। এরকম বিষয়ে তাই সকলকে সচেতন থাকার জন্য আমরা আহ্বান জানাই।







