গার্মেন্ট এক্সেসরিজ খাতে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ কর্পোরেট কর কমানো হলে তৈরি পোশাকের এই সংযোগ শিল্প থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা।
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে হোটেল লা ভিন্সিতে তৈরি পোশাক শিল্পের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়নের লক্ষে শুরু হতে যাওয়া তৈরি পোশাক উৎপাদন সংশ্লিষ্ট চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় তারা।
জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) যৌথ উদ্যোগে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আয়োজকরা জানায়, ২৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।
পোশাক শিল্পের মেশিনারি ও এর সহায়ক পণ্যের ১৭তম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, গার্মেন্টেক বাংলাদেশ ২০১৮’, ৯ম ইয়ার্ন অ্যান্ড ফ্রেবিক সোর্সিং ফেয়ার এবং গ্যাপেক্সপো শীর্ষক এই চারটি প্রদর্শনী চলবে চার দিন ধরে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইসিসিবির ১০টি হল জুড়ে বসবে এই চার মেলা।
সংবাদ সম্মেলনে জাকারিয়া ট্রেড অ্যান্ড ফেয়ার ইন্টান্যাশনালের প্রধান নির্বাহী টিপু সুলতান ভূঁইয়া বলেন, ‘গত বছরের সফল প্রদর্শনীর পর তৈরি পোশাক খাত ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বারের আসরে পোশাক শিল্পের আধুনিকায়ন, মানউন্নয়ন ও এবং মূল্যায়ণ বৃদ্ধির প্রযুত্তিগত দিক নির্দেশনা থাকবে।’
এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবেশনের প্রধান নির্বাহী নন্দ গোপাল বলেন, ‘প্রদর্শনীগুলো এক ছাদের নিচে হওয়ায় তৈরি পোশাকখাত শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা অর্জনের এক সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর মাধ্যমে পণ্যের বৈচিত্র্য আসবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি পণ্যের সাথে পরিচিত হওয়া যাবে। ’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি আবদুল কাদের খান বলেন, ‘দেশের রপ্তানি হার বাড়ানোর জন্য আমরা সরকারের থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিতে চাই। অন্যরা শতকরা ১২ শতাংশ হারে করপোরেট ট্যাক্স দিলেও আমাদের সেটা দিতে হয় ৩৫ শতাংশ। যদি উৎস কর দশমিক ৭ শতাংশ থেকে দশমিক ৫ শতাংশ কমানো হয় তাহলে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে এই সেক্টর থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করতে পারবো।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতবছর এই প্রদর্শনীতে ১০ টি দেশে অংশগ্রহণ করলেও এবার ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ২৪টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। মেলার পরিচিতি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন দেশ অংশ নিচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মাধ্যমে বিদেশেও পরবর্তীসময়ে পণ্য প্রদর্শনীর জন্য আলোচনা চলছে।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ২৪টি দেশের ৪৫০টি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে। এতে তারা পণ্যের উৎপাদন, মান ও বৈচিত্র্য, কারখানার নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৪ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। খোলা থাকবে প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে সন্ধা ৭ টা পর্যন্ত।







