২০০৯ সাল। যুব দল থেকে মূল দলের কোচ হয়েই বার্সেলোনার চালচলন বদলে দিয়েছিলেন পেপ গার্দিওলা। ক্লাব ইতিহাসে এক মৌসুমে গার্দিওলার ছয় শিরোপার রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ণ।
এরপর কেটে গেছে এক দশক। গার্দিওলা যুগ শেষ করে টিটো ভিলানোভা, টাটা মার্টিনো, লুইস এনরিকের হাত ঘুরে বার্সেলোনার দায়িত্ব এখন আর্নেস্টো ভালভার্দের হাতে।
বার্সা এখন ইউরোপীয় ফুটবলের পরাশক্তি ঠিকই, কিন্তু দিনকে দিন তাদের গৌরব অস্ত যাচ্ছে পশ্চিম প্রান্তে। এই দশ বছরে কী খুইয়েছে দলটি দেখা যাক তার খতিয়ান।
লা মাসিয়া থেকে এখন তেমন খেলোয়াড় আসে না
দায়িত্ব নিয়েই গার্দিওলা তার দল ভরে ফেলেছিলেন বার্সার যুব একাডেমি লা মাসিয়ার তরুণ ফুটবলারদের দিয়ে। লিওনেল মেসি, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, পিকে, পুয়োল, পেদ্রো রদ্রিগেজ- সবাই ছিলেন লা মাসিয়ার ছাত্র।
নিজে কী চান, কীভাবে খেলাতে চান, বার্সার দর্শন কী- সবকিছুই যেন এ ফুটবলারদের বোঝাতে পেরেছিলেন গার্দিওলা। নিজেও একই একাডেমির ছাত্র ছিলেন বলেই হয়ত গার্দিওলা শেকড়ের মূল্যটা বুঝতেন। ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। তার হাত ধরেই মেসি-জাভিরা ক্লাবকে ইউরোপ সেরা করেছেন দুবার। গার্দিওলা আমলে প্রায় সময়েই একাদশে থাকতো একাডেমির ছাত্রদের প্রাধান্য।
লা মাসিয়া এখনও ফুটবলার তুলে আনছে ঠিকই, কিন্তু গার্দিওলা যুগের পর অন্য কোচরা ভরসা রেখেছেন বাইরের ফুটবলারদের দিকে। ভালভার্দের দলে এখনো খেলছেন একাডেমির পাঁচজন। মেসি, পিকে, জর্ডি আলবা, সার্জিও বুস্কেটস, সার্জিও রবের্তোরা আছেন। তবে প্রায় সবারই বয়স ৩০ পার হয়ে গেছে। তারা চলে গেলে লা মাসিয়া থেকে আরেকটা সোনালি প্রজন্ম পেতে কতটা সময় অপেক্ষা করতে হবে কাতালানদের সেই প্রশ্নই এখন উচ্চকিত।
তরুণদের বার্সা বনাম বুড়োদের বার্সা
গার্দিওলার সময় একাদশে ছিল তরুণদের প্রাধান্য। ২০০৯ সালের দলটার গড় বয়স ছিল ২৫ বছরের কিছু বেশি। বর্তমান দলটার গড় বয়স ২৮। স্কোয়াডের মূল পাঁচ খেলোয়াড়ের বয়স ত্রিশেরও বেশি। স্বাভাবিকভাবেই বয়সের সঙ্গে শারীরিক সক্ষমতা কমতে থাকে অ্যাথলেটদের। প্রভাব পড়ে খেলায়ও। এ কারণে আস্তে আস্তে মাঠের লড়াইয়ে আধিপত্য হারাচ্ছে বার্সা।
বার্সা এখন আর খেলায় ছড়ি ঘোরাতে পারে না
টিকিটাকা দিয়ে মন ভরানো গার্দিওলা যুগে বল পায়ে রাখাটাই ছিল বার্সার মূল মন্ত্র। বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে ছয় সেকেন্ডের মধ্যেই বল কেড়ে নেয়ার জন্য শিষ্যদের চাপে রাখতেন পেপ। প্রতিপক্ষ তেমন বলই পেত না বলা চলে।
সেইদিন যে অস্ত গেছে তার প্রমাণ সদ্যগত এল ক্ল্যাসিকোতেই মিলেছে। বার্সার মাঠে তাদের নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমনকি সোসিয়েদাদের মাঠে অবিশ্বাস্যভাবে বল দখলে পিছিয়ে ছিল বার্সা। বল হারালে যে তা ফিরে পেতে হবে এখন আর সেই আগ্রাসনটা দেখা যায় না বললেই চলে।
বার্সা এখন প্রচুর খরচ করে
২০০৯ সালে দলবদলে বার্সার খরচ হয়েছিল ১১০ মিলিয়ন ইউরো। ৭০ মিলিয়নে ইব্রাহিমোভিচ, ৩৬ মিলিয়নে দানি আলভেজ ও ৪ মিলিয়নে ম্যাক্সওয়েলকে কিনেছিল কাতালানরা। বাকিরা সবাই ছিলেন লা মাসিয়া থেকে উঠে আসা তারকা-মহাতারকা।
দশ বছর বাদে শুধু এল ক্ল্যাসিকোতে খেলানো মূল একাদশে খেলোয়াড়দের দামের কথা চিন্তা করলে চোখ কপালে উঠে যাওয়ার কথা। মূল একাদশ সাজাতে বার্সার খরচ হয়েছে ৩৭১ মিলিয়ন ইউরো। ৭৫ মিলিয়ন দাম পড়েছে আয়াক্স থেকে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে আনতে। গ্রিজম্যানকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে আনা হয়েছে ১২০ মিলিয়নে। সুয়ারেজের দাম ছিল ৮৪ মিলিয়ন, ক্লেমেন্টে ল্যাংলের জন্য ৩৫, নেলসন সেমেদোর জন্য ৩০, টের স্টেগেনের ১২ ও ইভান রাকিটিচের জন্য ১৮ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছিল বার্সা।








