২০০৮ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে পা রাখেন কণ্ঠশিল্পী ইমরান। মাত্র দশ বছরেই সমকালীন সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর তকমা লেগে যায় তার গায়ে। শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই সীমাবদ্ধ নন তিনি, কাজ করছেন সংগীতপরিচালক হিসেবেও। নিজের পাশাপাশি সুর বাঁধছেন অন্য শিল্পীর জন্যও। নিজের কণ্ঠে একের পর এক শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে চলেছেন তিনি। সমানভাবে কাজ করছেন অডিও এবং প্লেব্যাকে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশ মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন স্টেজ শো-এর মাধ্যমে। নিজের ব্যস্ততা এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংগীতাঙ্গনের নানান দিক নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি হয়েছেন এই কণ্ঠশিল্পী:
কেমন আছেন, ব্যস্ততা কী নিয়ে?
ভালো আছি। সামনে কোরবানি ঈদ। ঈদের কাজগুলো নিয়েই একটু ব্যস্ত আছি।
এবারের ঈদে কী কী গান আসছে?
এই ঈদে আমার কয়েকটি গানের মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে। সেগুলোকে সামনে রেখেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। এছাড়া বেশকিছু নতুন অডিও গান এবং কিছু নাটকের গান প্রকাশিত হবে ঈদে। পাশাপাশি আমার সংগীত পরিচালনায় কয়েকজন কণ্ঠশিল্পীর গান প্রস্তুত করছি যা এই ঈদেই প্রকাশিত হবে।
মিউজিক ভিডিওর কথা বলছিলেন, গায়ক ইমরান নায়ক হিসেবে পর্দার সামনে দাঁড়াতে কতোটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
আমি কণ্ঠশিল্পী। গান করাটাই মূলত আমার কাজ। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ শিল্পীর গান শোনার পাশাপাশি তাকে দেখতেও চায়। সময়ের চাহিদার জন্যই পর্দার সামনে নায়ক হিসেবে দাঁড়াতে হয়। প্রথম প্রথম একটু বিব্রতবোধ করলেও এখন কাজ করতে করতে ঠিক হয়ে গেছে।
এখন কণ্ঠশিল্পীকে একইসাথে গান করতে হচ্ছে পাশাপাশি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয়ও করতে হচ্ছে। এই দুটি কাজ একসাথে করতে গিয়ে গানের প্রতি মনোযোগের ঘাটতি পড়ছে না?
আমি শুধু কণ্ঠশিল্পী নই, সংগীত পরিচালকও। সাধারণত আমার নিজের গান আমি নিজেই সুর এবং সংগীত পরিচালনা করি। আমার নিজের ক্ষেত্রে আমি সবসময় গানের অডিওকে গুরুত্ব দিই। যখন গানের কথা হাতে পাই, তখন চেষ্টা করি এর কথার সাথে সামাঞ্জস্যতা রেখে একটি সুর দাঁড় করাতে। মাঝে মাঝে আমার সুরের উপরও গীতিকারকে গান লিখতে বলি। অডিওটা পুরোপুরি নির্মাণের পর মিউজিক ভিডিও নির্মাণের প্রসঙ্গটা আসে। ভিডিও নির্মাতা গানের কথার উপর ভিত্তি করে মিউজিক ভিডিওর গল্প সাজিয়ে আমাকে তা বুঝিয়ে দেন এবং সেই গল্প অনুযায়ি নায়িকা নির্বাচন করেন। গান নির্মাণ থেকে মিউজিক ভিডিও শুটিং একটি পর্যায়ক্রমিক ধাপে শেষ হয়। সুতরাং আমার কাছে মনে হয়না যে দুই কাজ একসাথে করতে গেলে মনোযোগের ঘাটতি পড়ে।
এখন তো পর্দার সামনে কাজ করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। সামনে যদি মিউজিক ভিডিওর পাশাপাশি নাটক কিংবা সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসে কী করবেন?
সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব না আসলেও এখন পর্যন্ত অসংখ্যবার নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছে। এমন অনেকের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছি যাদেরকে ফেরানো আমার জন্য বিব্রতকর ছিল কিন্তু বিনয়ের সাথে তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। এখন আমি শুধু গান নিয়েই থাকতে চাই। আপাতত নাটক কিংবা সিনেমায় অভিনয়ের কোন ইচ্ছে নেই।
আপনার গাওয়া বেশকয়েকটি গান তো কোটির ঘর ছুঁয়েছে…
হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত আমার গাওয়া ৮ টি গান কোটির ঘর ছুঁয়েছে। সর্বপ্রথম কোটির ঘর ছুঁয়েছিল ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ গানটি। এটি শুধু আমার গাওয়া প্রথম কোটি ভিউ হওয়া গান নয়, যে কোন বাংলা গান হিসেবে প্রথম কোটি ভিউ হওয়া গান ছিল এটি। সামনে আমার গাওয়া আরও কয়েকটি গান কোটি ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁতে যাচ্ছে।
এখন তো অনেক গানই কোটি কোটি ভিউ হচ্ছে। কোটি ভিউ হলেই কি সেই গানকে শ্রোতাপ্রিয় কিংবা ভালো গান বলা যায়?
গানের মান ও শ্রোতাপ্রিয়তা নির্বাচনের মানদণ্ড ইউটিউবের ভিউ নয়। একটি গানকে তখনই শ্রোতাপ্রিয় বলা যায় যখন তা আশেপাশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাজতে শোনা যায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটি নিয়ে মানুষকে আলোচনা করতে দেখা যায়। আর গান ভালো না খারাপ তা নির্দিষ্ট করে বিচার করার মাপকাঠি নেই। এক একজনের কাছে এক এক ধরনের গান ভালো লাগে। একজনের কাছে গান ভালো লেগেছে বলেই তা ভালো হয়ে যাবে কিংবা একজনের কাছে গান খারাপ লেগেছে বলেই যে তা খারাপ হয়ে যাবে ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে শ্রোতারা ভালোবেসে যে গান গ্রহণ করে সেই গানই ভালো গান কারণ দিনশেষে শ্রোতারাই গানকে বাঁচিয়ে রাখেন।
কণ্ঠশিল্পী অথবা সংগীত পরিচালক, নিজের কোন পরিচয়কে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সবার প্রথমে আমি একজন শিল্পী তারপর সংগীত পরিচালক। সুতরাং নিজেকে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচয় দিতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
অন্য কণ্ঠশিল্পীর জন্য গান করতে গেলে কোন বিষয়টি মাথায় রাখেন?
আমি যখন অন্য কণ্ঠশিল্পীর জন্য সুর করি তখন তার কণ্ঠের জন্য কী ধরনের গান করলে তার কণ্ঠে গানটি মানাবে পাশাপাশি শ্রোতাদের কানেও গানটি শুনতে ভালো লাগবে এই বিষয়টি মাথায় রাখি।
অডিও এবং সিনেমা দুই মাধ্যমেই কাজ করছেন আপনি। কোন মাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
সিনেমার গানের ক্ষেত্রে এর গল্প এবং যে দৃশ্যে গানটি চিত্রায়িত হবে তা মাথায় রাখতে হয়। পাশাপাশি প্রযোজক এবং পরিচালকের পছন্দের ব্যাপারটিও মাথায় রাখতে হয় যে তারা কী ধরনের গান চাচ্ছেন আমার কাছ থেকে। আর অডিওতে গানের ক্ষেত্রে আমি নিজে যেমনটি চাই সেইভাবেই গান করতে পারি, অর্থাৎ পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে। তবে আমি দুই মাধ্যমেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
বাংলাদেশের অনেক তরুণীর মনে জায়গা করে আছে ইমরান। কিন্তু ইমরানের মনে জায়গা নিয়েছে কে? বিয়েটা করছেন কবে?
আপাতত ইমরানের মনের পুরোটা জায়গা গানের জন্যই। গানের সাথেই আমার প্রেম চলছে। বিয়ের ব্যাপারে এখনই কিছু ভাবছি না। ওটা পরিবারের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আমি শুধু মন দিয়ে গানটাই করে যাচ্ছি।
যারা সংগীতাঙ্গনে আগামীতে পা রাখতে চায় তাদের উদ্যেশ্যে কি পরামর্শ দেবেন?
আমি নিজেকেই এখনও নতুন মনে করি। প্রতিনিয়ত শিখছি। পরামর্শ দেওয়ার কিছু নেই। শুধু একটা কথাই বলতে চাই, গান শেখার এবং চর্চার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে নিজেকে সেরা প্রমাণের।








