ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যতো হত্যাকাণ্ড হয় তার বেশিরভাগের জন্যই অবৈধভাবে গরু আমদানিকে দায়ী করা হয়। এমনকি যে কাউকে হত্যা করার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যকার পতাকা বৈঠকেও বিএসএফ সবসময় একে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করায়। তাই সীমান্তে এসব অনাকাঙ্খিত হত্যাকাণ্ড বন্ধের লক্ষ্যে বিজিবির উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে। কেননা বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেছেন, রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে যেসব গরু ব্যবসায়ী বৈধভাবে দেশে ভারতীয় গরু আনতে চায় আগামী কোরবানি ঈদে ভারতীয় গরু আনার ক্ষেত্রে সীমান্তে তাদেরকে কোন বাধা দেয়া হবে না। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় গরু আনার জন্য বাংলাদেশি রাখাল ও ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করতে পারবে না। তবে ভারতের ব্যাপারিরা জিরো লাইনে গরু নিয়ে এলে নিয়ম অনুযায়ী এদেশের ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে আসতে পারবেন। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে করা গরুর ব্যবসা বন্ধে এটি নিশ্চয়ই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এছাড়া মহাপরিচালকের ধারণা, বৈধভাবে ব্যবসায়ীরা গরু আনতে পারলে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড অনেকটা কমে যাবে। কিন্তু ভারতীয় গরু আমদানির ফলে এসব সুবিধার পাশাপাশি আরেকটি বড় আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তা হলো- এর ফলে দেশীয় খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা। কেননা সারাবছর দেশের খামারিরা যে আশায় গরু লালন-পালন করেন ঈদের আগে এভাবে ভারতীয় গরু আনতে দিলে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের এভাবে ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়া কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি ও বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশে চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ করার সক্ষমতা দেশের খামারিদের রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকবছর ভারতীয় গরু আমদানি নিষিদ্ধ থাকায় তেমন একটা সমস্যা হয়নি। তাই আমরা মনে করি, দেশীয় খামারিদের কথা চিন্তা করে চাহিদার বাকী ২০ শতাংশ গরু ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে আনা যেতে পারে। কোনভাবেই এর বেশি গরু দেশের বাইরে থেকে আমদানি করতে দেয়াকে আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি না। এছাড়া পরনির্ভরশীলতার বদলে দেশেই চাহিদার শতভাগ গরুর উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।








