সাবেক স্বামী পুলিশের এক এএসআই এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গণ-ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন ঢাকার একটি থানায় কর্মরত এক নারী পুলিশ কন্সটেবল। তার অভিযোগ, মামলা করতে চাইলে মামলা না নিয়ে খিলগাঁও থানার ওসি দু’জনের আবার বিয়ের উদ্যোগ নেন। কিন্ত চাকরি না ছাড়লে আবারো বিয়েতে রাজী হননি সাবেক স্বামী এএসআই কলিমুর রহমান।
নারী কন্সটেবলের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পথে তিলপাপাড়া এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করে একটি বাসায় নিয়ে পানি ও খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অজ্ঞান করে সাবেক স্বামী ও তার সহযোগীরা তাকে ধর্ষণ করে।
রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে একদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শনিবার দুপুরে তিনি ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।
তবে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়নি দাবি করে খিলগাঁও থানার ওসি ইন্সপেক্টর মোস্তাফিজ বলেছেন, ওই নারী কন্সটেবল কোনো মামলা দিতে চাননি। এমনকি ধর্ষণের বিষয়েও তিনি কিছু জানান নি।
খিলগাঁও অপরাধ অঞ্চলের সহকারি পুলিশ কমিশনার নূর আলম বলেছেন, ‘তারা দু’জনই আবারো বিয়ের মাধ্যমে আগের মামলাগুলো মিটিয়ে ফেলার জন্য এসেছিলেন। কিন্ত অভিভাবকদের সম্মতি না থাকায় আমরা তাদের ব্যাপারে জড়াতে চাইনি।’
‘আপনারা অভিভাবকদের সঙ্গে বসুন,’ এরকম পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে এসি নূর আলম বলেন, সেসময় নারী পুলিশ সদস্য ধর্ষণের কোনো অভিযোগ আনেন নি।
ওই নারী কন্সটেবল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, তার সাবেক স্বামী এ এস আই কলিমুর রহমান এক সময় খিলগাঁও থানায় ছিলেন। আগে থেকেই তিনি বর্তমান ওসির প্রিয়ভাজন। তাই ওসি মামলা না নিয়ে সমঝোতা করতে তাকে চাপ দেন। চাকরি হারানোর ভয় দেখান।
ওসি অবশ্য এরকম সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
থানা পুলিশ মামলা না নিলে আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য।
ডিভোর্সের আগেও পরে সাবেক স্ত্রী ওই নারী কন্সটেবলের দায়ের করা কয়েকটি মামলার কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন এএসআই কলিমুর রহমান। পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর তাকে এসপিবিএন-এ বদলি করা হয়। ওই নারী কন্সটেবল বর্তমানে ভাটারা থানায় কর্মরত আছেন।






