বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)র ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার শপথ নিয়েছে বিএনপি। শুক্রবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনে এসে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই শপথের কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে বিএনপি। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। পোশাক শিল্পের প্রসার করেছে। কৃষিতে বিপ্লব ঘটিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার করে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু এরশাদ এসে তা ধ্বংস করেছে। পরে দীর্ঘ ৯ বছর আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদ থেকে মুক্ত হয় দেশ। আবারও প্রতিষ্ঠিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র।
তিনি আরও বলেন, আজ আবারও দেশ অঘোষিত একদলীয় শাসনের কবলে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে বিএনপির সকল অর্জনকে মুছে দিচ্ছে। এই সরকার মানুষের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও আমাদেরকে প্রধান গেইট দিয়ে জিয়াউর রহমানের মাজার আসতে দিচ্ছে না। ভিন্ন মতকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করছে সরকার। প্রতিদিন গুম-খুন করে দেশে আতংক ছড়িয়ে দিয়েছে। 
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান। আজ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে চলবে।
ফখরুল বলেন, আমাদের চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ঈদকে সামনে রেখে দেশের বন্যার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আমাদেরকে। তিনি প্রতিটি মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন।
ফখরুল রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলছে জানিয়ে মিয়ানমার সরকারকে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান জানান এবং অসহায় রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ সভাপতি হাবীব উন নবী খান সোহেল সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।







