গণতন্ত্রকে দুই চাকার বাইসাইকেলের সঙ্গে তুলনা করে, গণতন্ত্রের বিকাশে বিরোধীদলগুলোকে অপরিহার্য ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
শনিবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টি-জেপি’র কেন্দ্রীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যোগদান দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
কাদের বলেন: গণতন্ত্র এক চাকার বাইসাইকেল নয, দুই চাকার বাইসাইকেল। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে। সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও মনে রাখতে হবে তাদের ভূমিকা অপরিহার্য। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে বিরোধী দলকে শক্তিশালী হতে হবে। শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া শক্তিশালী গণতন্ত্র বিশ্বাস করা যায় না। এটা আমাদের মনে করতে হবে রাখতে হবে। এটা আমরা (আওয়ামী লীগ) পালন করি না।
এসময় জাতীয় পার্টি-জেপি’র অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসংশা করে তিনি বলেন: আওয়ামী লীগ সরকার যখন কিছু আসন সংকটে ছিল, সে সময় আওয়ামী লীগের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল জাতীয় পার্টি-জেপি। মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সেদিন সরকার গঠনে সহযোগিতা করেছিলেন। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে স্ট্র্যাটেজিক একটি বিষয় আছে সেই সম্পর্ককে ধরে রাখায় ভূমিকা থাকবে সবারই।
তিনি আরও বলেন: আমি আমার নেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টি-জেপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এই কথাই বলে যেতে চাই, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে আসুন একসাথে হই। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আমরা পরাজিত করে, সোনার বাংলা বিনির্মাণে করব।
এসময় সতর্ক করে কাদের বলেন: আজও বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চক্রান্ত চলছে। বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ আছে, রক্তের গন্ধ আছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আমরা একসাথে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রাজনীতিতে সৌজন্য বোধের বিষয়টিও ওঠে আসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে। তিনি বলেন: আজ রাজনীতিতে সৌজন্যতাবোধ নেই। ব্যানার, বিলবোর্ড সৌজন্যতা আছে, কিন্তু রাজনীতিতে সৌজন্যতাবোধ বিরল প্রাণীর মত হারিয়ে যাচ্ছে। সহযোগিতা নেই, ক্রমেই রাজনীতিতে সৌজন্যতাবোধ হারিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যতাবোধের অভাবে যে বিভাজন তৈরি হচ্ছে তা তুলে ধরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন: বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুবই খারাপ একটা সময় যাচ্ছে। নেতিবাচক এ দিকটা আমরা এড়াতে পারছি না। দিনদিন ডিভাইস হয়ে যাচ্ছে, আমাদের রাজনীতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে যাচ্ছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ক্রমেই রাজনীতির মেরুকরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে আজ সামাজিক অনুষ্ঠান ও কারো মৃত্যুর পরে অনুষ্ঠানে যেতে দ্বিধাবোধ করে। এসব দৃষ্টান্ত রাজনীতির জন্য শুভ নয়।
এসময় তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন: এটাও বাংলাদেশের রাজনীতির মাস্টার মাইন্ড এবং রাজনীতি অলঙ্ঘনীয় দেয়াল সৃষ্টি করছে বিএনপি। গণতান্ত্রিক রাজনীতির বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অলঙ্ঘনীয় দেয়াল হাজার ৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়েই সৃষ্টি করেছে। অলঙ্ঘনীয় দেয়াল যারা সৃষ্টি করেছিল তাদেরকে বাদ দিয়ে তো ইতিহাস সৃষ্টি করা যায়নি। সেদিন কারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল? বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল, দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল? কারা ইনডেমিনিটি জারি করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করতে চেয়েছিল? তারা পঞ্চম সংশোধনী আইন পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার বন্ধ করেছিল। রাজনীতিতে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল সেখান থেকেই সৃষ্টি হয়েছিল।






